বীরভূমে বন্যার ভ্রুকুটি, ফুঁসছে নদনদী, তিলপাড়ার জল ছাড়ায় বিপত্তি, চাষের জমিতে জল

অবিরাম বৃষ্টি এবং নিম্নচাপের জেরে বীরভূমের নদনদীগুলি এখন ফুঁসছে, যার ফলস্বরূপ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিলপাড়া ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার কারণে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকায় নতুন করে বিপদ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে লাভপুরের কুয়ে নদীতে জলস্তর বেড়ে বাঁশের সেতু জলের তলায় চলে গেছে। এর পাশাপাশি, গার্ডওয়ালের ধস এবং চাষের জমিতে জল ঢোকা শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।

সূত্রের খবর, নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে বীরভূমে অতিবৃষ্টি অব্যাহত। এরই মধ্যে সিউড়ির ময়ূরাক্ষী নদীর তিলপাড়া জলাধার থেকে ২৬০০ কিউসেক, হিংলো জলাধার থেকে ৪০০০ কিউসেক এবং ব্রাহ্মণী জলাধার থেকে ২১২৬ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার ফলে হিংলো নদীর কজওয়ে সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। অন্যদিকে, কোপাই, কুয়ে, অজয়, দ্বারকা, ব্রাহ্মণী এবং ময়ূরাক্ষী নদ-নদীগুলিও বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। কোপাই নদীর জল বিপদসীমা দিয়ে বইছে, যা যেকোনো মুহূর্তে প্লাবনের কারণ হতে পারে।

ভাঙছে ফেরিঘাট, বন্ধ পারাপার:

অজয় নদের উপর জয়দেব ফেরিঘাট ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়েছে। সাঁইথিয়ায় ময়ূরাক্ষী নদীর উপর ফেরিঘাটটিও ভেঙে যাওয়ায় নদীর দু’পাড়ের মধ্যে পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যা স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। লাভপুরের কাদরকুলো কজওয়ে কুয়ে নদীর জলে সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে ডুবে গেছে, এবং চাষের জমিতেও জল ঢুকতে শুরু করেছে, যা কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

তিলপাড়ার জলে ধস, আটক শ্রমিক উদ্ধার:

বৃহস্পতিবার তিলপাড়া জলাধার থেকে জল ছাড়ার সময় জলাধার সংস্কারের কাজে যুক্ত বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন। পরে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তিলপাড়া জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে মহম্মদ বাজার এলাকায় একাধিক গার্ড ওয়ালের মাটিতে ধস দেখা দিয়েছে। ময়ূরাক্ষী নদীতে জলের তীব্র গতিবেগের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। গতকাল রাতে সেচ দফতরের অফিসাররা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। যে দিকের গার্ড ওয়ালের মাটিতে ধস নেমেছে, সে দিকের তিনটি জল ছাড়ার গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি গেটগুলি খোলা রাখা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস:

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এখনই বৃষ্টি থামার কোনও পূর্বাভাস নেই। শনিবার বজ্রবিদ্যুৎ সহ বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও তার পরিমাণ ও ব্যাপকতা কমবে। তবে রবিবার বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পরিমাণ সামান্য বাড়বে। সোমবার পুরুলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলাতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাতে বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার বেশিরভাগ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *