রাজন্যাকে হঠাৎ ফোন BJP-র সজলের, জেনেনিন দুজনের মধ্যে কী কথা হল?

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী রাজন্যা হালদারের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই আবহে শুক্রবার বিজেপি নেতা সজল ঘোষের সঙ্গে রাজন্যার ফোনালাপ এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। যদিও সজল ঘোষ bangla.aajtak.in-কে জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে ‘দলে যোগদান’ নিয়ে কোনো কথা হয়নি।
সজল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি রাজন্যাকে ফোন করে পরামর্শ দিয়েছেন যে অভিযোগগুলো তিনি টিভিতে প্রকাশ্যে করেছেন, সেগুলোর বদলে থানায় অভিযোগ জানানো উচিত। সজল বলেন, “আমি ওকে ফোন করেছিলাম। বলেছি, যে অভিযোগগুলো তুমি টিভির সামনে কান্নাকাটি করে করেছো, সেগুলোর বদলে থানায় অভিযোগ করা উচিত।” তিনি আরও জানান যে, রাজন্যার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন বিতর্কে একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন। রাজন্যা তাকে জানিয়েছেন যে তিনি দলকে অভিযোগ করেছেন, যার উত্তরে সজল তাকে থানায় জানানোর কথা বলেছেন।
বিজেপিতে যোগদান নিয়ে জল্পনা
রাজন্যার স্বামী প্রান্তিকসহ তাদের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সজল ঘোষ বলেন, “দলে নেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। দলে কিছু নিয়মশৃঙ্খলা রয়েছে। কোনো জল্পনার কারণ নেই। দলে নেওয়ার মালিক আমি নই।” তিনি নিজেকে দলের একজন ‘সিপাই’ উল্লেখ করে বলেন, “ও (রাজন্যা) যদি বলে দলে যোগ দিতে চায়, সেটা আমি দলকে জানাব। দল নিয়ে কোনো কথা হয়নি।” তবে, কথোপকথনের সময় সজল রাজন্যার প্রশংসা করে বলেন, “ওর কথা খুব ভালো, বক্তব্য রাখে ভালো।”
ছবি-বিতর্কে সজলের প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি কসবায় সাউথ ক্যালকাটা ল’কলেজে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার পর রাজন্যা বিস্ফোরক অভিযোগ করে দাবি করেছিলেন যে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ব্যবহার করে তার বিকৃত ছবি জুনিয়রদের দেখানো হতো। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে। রাজন্যার এই মন্তব্যের পর তৃণমূলের অন্দরেও বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং দলের একাংশ তার বিরুদ্ধে সরব হয়।
এই ছবি-বিতর্ক প্রসঙ্গে সজল ঘোষ বলেছেন, “এআই হোক, বিকৃত হোক বা আসল হোক, ওর উচিত প্রথমে থানায় অভিযোগ করা। এটা নিয়ে দলের (তৃণমূল) লোকের নোংরামি করা উচিত নয়।”
সব মিলিয়ে, রাজন্যার এই বিতর্কের মধ্যেই সজল ঘোষের সঙ্গে তার ফোনালাপ বিজেপিতে যোগদানের জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। যদিও বিজেপি নেতা সরাসরি কোনো নিশ্চিত বার্তা দেননি, তবে তার মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।