পোষা মুরগির জন্য থানা পর্যন্ত ছুট! নালগোন্ডায় পৈশাচিক অত্যাচারে বিচার চাইলেন বৃদ্ধা

পোষা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার এক হৃদয়বিদারক ঘটনা এবার তেলঙ্গানায়। প্রতিবেশী কর্তৃক পোষা মুরগির পা ভেঙে দেওয়ায়, তার কঠোর শাস্তির দাবিতে আহত মুরগিটিকে নিয়ে সটান থানায় হাজির হলেন এক বৃদ্ধা। আবেগঘন এই মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে তেলঙ্গানার নালগোন্ডা জেলার গোল্লাগুডেম গ্রামে। গঙ্গাম্মা নামের ওই বৃদ্ধা তাঁর পোষা মুরগিটিকে অত্যন্ত ভালোবাসেন বলে জানা যায়। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবেশী রাকেশ নামে এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে অমানবিকভাবে তাঁর মুরগিটিকে আঘাত করেন, যার ফলে পাখিটির পা গুরুতরভাবে জখম হয় এবং সে হাঁটতে পারছে না। রাকেশের এই আচমকা হামলার কারণ জানতে চাইলে জানা যায়, মুরগিটি নাকি এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়াত এবং রাকেশের খড়ের গাদায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শস্য খেয়ে নিত। নিজের ফসলের ক্ষতিতে ক্ষুব্ধ হয়েই রাকেশ এই নিষ্ঠুর কাজটি করেছেন।
হতাশ হয়ে গঙ্গাম্মা তাঁর আহত মুরগিটিকে নিয়ে নাকেরকল থানায় যান এবং রাকেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বৃদ্ধা স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি তাঁর পোষা প্রাণীর ক্ষতির জন্য কোনও আর্থিক ক্ষতিপূরণ চান না, তাঁর একমাত্র দাবি হল এই নিষ্ঠুরতার জন্য ন্যায়বিচার।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ কর্মকর্তারা গঙ্গাম্মাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং তাঁর পোষা প্রাণীর আঘাতের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। কিন্তু গঙ্গাম্মা তাঁর দাবিতে অনড় থাকেন। তাঁর জেদের কাছে হার মেনে পুলিশকর্তারা অবশেষে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাজি হন। তাঁকে গ্রামে গিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিরোধ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। পুলিশের আশ্বাসের পরেই বৃদ্ধা তাঁর আহত মুরগি নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বৃদ্ধা মহিলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং তাঁর প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন। এমনকি কেউ কেউ গ্রামীণ এলাকায়ও প্রাণী সুরক্ষা আইন আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী লিখেছেন, “গরু, কুকুর, বিড়াল, অথবা মোরগ যাই হোক না কেন, যন্ত্রণা একই। অপরাধ একই। আর তাই, আইন একই থাকে।” অন্য একজন লিখেছেন, “কেউ কেউ হাসতেই পারেন। কিন্তু এটি হাসির বিষয় নয়। এটি নিষ্ঠুরতা। আর এটি একটি অপরাধ।”
এই ঘটনাটি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, আমাদের দেশে প্রাণী সুরক্ষা আইনের প্রয়োজনীয়তা কতটা। কিছুদিন আগেই ছত্তীসগড়ের সুকমা জেলার এক গ্রামে একটি কালো ভাল্লুককে ভয়ঙ্করভাবে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে ভাল্লুকটির পা স্টিলের তার দিয়ে কাঠের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।