চুপিচুপি দেশকে পাহারা দেয় ভারতের এই বিশেষ বাহিনী, যাদের চেনেন না কোনো সেনাও! জানেন এঁরা কারা?

১৯৬২ সাল। চিনের সঙ্গে যুদ্ধে কার্যত পর্যুদস্ত ভারত। সীমান্তে লাগাতার উত্তেজনা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সেই সময় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে গঠিত হয় এক বিশেষ বাহিনী—স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স (SFF), পরিচিত ‘এস্ট্যাবলিশমেন্ট ২২’ নামেও। এ বাহিনী আজও ভারতের অন্যতম গোপন ও কৌশলগত শক্তি।
SFF-এর শুরুর সদস্যরা ছিলেন চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, দলাই লামার অনুগামী তিব্বতি খাম্পা যোদ্ধা। অনেকেই ছিলেন দলাই লামার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী। পরবর্তী সময়ে এই বাহিনীতে যোগ দেন ভারতের সাহসী গোর্খা যোদ্ধারাও।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধীনে নয়, এই বিশেষ বাহিনী সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে (PMO) রিপোর্ট করে। প্রশিক্ষণ দেয় ভারতের গুপ্তচর সংস্থা RAW (Research and Analysis Wing)। তবে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহযোগিতাও নিয়ে থাকে এই বাহিনী।
তাদের কার্যকলাপ এতটাই গোপনীয় যে, সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক ছাড়া খুব কম জনেই এই বাহিনীর সদস্যদের চেনেন বা জানেন।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ: চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই বাহিনীর অভিযান এখনও কিংবদন্তি।
কার্গিল যুদ্ধ: যদিও সরকারিভাবে স্বীকার না করলেও, বহু বিশ্লেষকের মতে, গোপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় SFF।
২০২০ সালের অপারেশন স্নো লেপার্ড: গালওয়ান সংঘর্ষের পর SFF-কে ব্যবহার করে ভারত চিনা বাহিনীকে ঠেকাতে সক্ষম হয়। এই অভিযানে শহিদ হন কোম্পানি লিডার নিমা তেনজিং, যাঁর সাহসিকতা দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসে।
উঁচু পাহাড়, বরফে মোড়া দুর্গম অঞ্চল—এসবই এই বাহিনীর কাছে রোজকার পথ। উত্তরাখণ্ডের চক্রতা অঞ্চলে এদের সদর দফতর। কঠিন মানসিকতা ও অতিমানবিক ধৈর্যই এদের প্রধান অস্ত্র।
যখনই সীমান্তে উত্তেজনা, যখনই প্রয়োজন অসাধারণ সাহস—তখনই নাম উঠে আসে এই স্পেশাল ফোর্সের। এরা মুখে না বলেও দেশের রক্ষাকবচ। তাদের অস্তিত্বটাই যেন ভারতীয় কৌশলগত প্রস্তুতির ছায়াবাহিনী।