কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও ডাইনি অপবাদ, পূর্ণিয়ায় জীবন্ত দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জন, আটক তান্ত্রিকসহ ২

যখন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়গান গাইছে, তখন সভ্যতার এক অন্ধকার দিক আবারও উন্মোচিত হলো বিহারের পূর্ণিয়ায়। ডাইনি সন্দেহে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে মুফাসিল থানার অন্তর্গত এক গ্রামে। সোমবার দুপুরে ৫০ জনেরও বেশি গ্রামবাসীর বর্বর হামলায় এই ঘটনা ঘটে, যা স্তম্ভিত করে দিয়েছে সকলকে।
বর্বরতা ও একমাত্র জীবিত সাক্ষী:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আচমকা প্রায় ৫০ জন গ্রামবাসী ওই পরিবারটির বাড়িতে চড়াও হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তারা পুরো বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে। এরপর বাড়ির সদস্যদের ধরে বেধড়ক মারধর করে একটি ঘরের মধ্যে আটকে দেয়। তারপর সেই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। চোখের সামনেই দগ্ধ হতে হয় অসহায় পরিবারটিকে।
তবে, এই বিভীষিকাময় ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে। পরিবারের একমাত্র সদস্য, প্রায় ১৬ বছর বয়সী এক নাবালক কোনোমতে সেই উন্মত্ত ভিড়ের মধ্যে থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সে দৌড়ে তার মামারবাড়িতে গিয়ে পুরো ঘটনার বিবরণ দেয়।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার:
নাবালকের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুড়ে যাওয়া দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এক তান্ত্রিকের প্ররোচনাতেই গ্রামবাসীরা এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটিয়েছে। ডাইনি অপবাদে গ্রামবাসীদের মধ্যে অন্ধ কুসংস্কার এবং ক্রোধ উস্কে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই তান্ত্রিকের বিরুদ্ধে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওই তান্ত্রিকসহ আরও দু’জনকে ইতিমধ্যে আটক করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি অভিযান চলছে।
এই ঘটনা একদিকে যেমন আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়েছে, তেমনই অন্যদিকে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুগেও সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত কুসংস্কারের বীভৎস রূপকে সামনে এনেছে। ডাইনি অপবাদে এমন অমানবিক হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করে দিল যে, শিক্ষার প্রসার ঘটলেও অন্ধবিশ্বাস এবং বর্বরতা আজও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কীভাবে বাসা বেঁধে আছে। এই ঘটনায় জড়িত সকলের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।