গাজিয়াবাদে শাশুড়িকে নৃশংস মারধর, পুত্রবধূর তাণ্ডব সিসিটিভিতে ভাইরাল, বিচার নিয়ে প্রশ্ন!

পারিবারিক কলহ যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তার এক নৃশংস চিত্র উঠে এলো উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে। গোবিন্দপুরমে পুত্রবধূকে প্রকাশ্যে শাশুড়িকে মারধর ও সিঁড়ি থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ভাইরাল ভিডিওতে ভয়ঙ্কর চিত্র:

গত ১লা জুলাইয়ের এই ঘটনায় ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি বাড়ির বাইরে সিঁড়ির সামনে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মধ্যে তীব্র বাক-বিতণ্ডা চলছে। তাঁদের পাশেই উপস্থিত রয়েছেন আরও এক মহিলা, যাকে পুত্রবধূর মা বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ, তিনি গোটা ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করছিলেন। বচসা চলাকালীন শাশুড়ি যখন পুত্রবধূর মায়ের হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখনই পুত্রবধূ আকাঙ্ক্ষা (ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে) রণং দেহি মূর্তি ধারণ করেন।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আকাঙ্ক্ষা তাঁর শাশুড়ি সুদেশ দেবীকে ক্রমাগত মারধর করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি শাশুড়িকে আছড়ে ফেলে সিঁড়ি থেকে ঠেলে ফেলে দিতেও উদ্যত হন। এই নৃশংস মারধর চলতে থাকে যতক্ষণ না কেউ দরজা খুলে দেয়।

পুলিশের প্রাথমিক নিষ্ক্রিয়তা ও ক্ষমতার প্রভাবের অভিযোগ:

ইন্ডিয়া টুডে-র একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, এই ঘটনায় সুদেশ দেবী বিচার চেয়ে বারবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু প্রাথমিকভাবে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। পরে অবশ্য একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। সুদেশ দেবীর অভিযোগ, তাঁর পুত্রবধূর পরিবারের সঙ্গে পুলিশি উপরমহলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে, যার কারণে পুলিশ নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এই অভিযোগ পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

মহারাষ্ট্রে অনুরূপ ঘটনা: কন্যা সামনেই বাবার উপর হামলা:

একই সময়ে, বিচ্ছিন্ন একটি হলেও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রের জালনা জেলায়। সেখানে এক ব্যক্তিকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ৯ জনের একটি দলের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা প্রহৃত ব্যক্তির কন্যাকে কুমন্তব্য করায় তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। এরপরেই ওই ৯ জনের দল তাঁর উপর চড়াও হয়ে নির্মমভাবে মারধর করে। গত সপ্তাহের এই মারধরের ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাবাকে যাতে মারধর করা না হয়, তার জন্য এক নাবালিকা মেয়ে উত্তেজিত অভিযুক্তদের কাছে ভিক্ষা চাইছে এবং তাদের ‘ভাইয়া’ বলে সম্বোধন করছে। তা সত্ত্বেও ওই দলের দুজন ক্রমাগত মেয়েটির বাবাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে চলেছে।

পারিবারিক হিংসা এবং প্রকাশ্যে মারধরের এই দুটি ঘটনা সমাজের মধ্যে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে আবারও স্পষ্ট করে তুলল। কর্তৃপক্ষের দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অপরিহার্য।

Editor001
  • Editor001