স্বপ্নপূরণের পথে নীলাঞ্জন মণ্ডল, আইআইটি রুরকিতে ভর্তির দুশ্চিন্তা দূর করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার

অর্থনৈতিক টানাপোড়েন যেন মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে কেড়ে না নেয়, সেই লক্ষ্যেই এবার এগিয়ে এলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বালুরঘাটের ডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের বালিন্দর গ্রামের বাসিন্দা, মেধাবী ছাত্র নীলাঞ্জন মণ্ডল, যিনি এবারের আইআইটি জ্যাম (জয়েন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট ফর মাস্টার্স) পরীক্ষায় ১২৬ অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক অর্জন করে আইআইটি রুরকিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, তাঁর আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করে দিলেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। রবিবার নীলাঞ্জনের বাড়িতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার শুধু ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসই দেননি, বরং তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পুরো দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছেন, যা মণ্ডল পরিবারে এক চওড়া হাসি ফুটিয়েছে।

দক্ষিণ দিনাজপুরের এই কৃতি ছাত্রের বাবা যোগেশ মণ্ডল একজন ভাগচাষি এবং মা জয়ন্তী বর্মন মণ্ডল গৃহকর্মী। টিনের ছাউনি দেওয়া মাটির একটিমাত্র ঘরে তাদের বসবাস। দিন আনা, দিন খাওয়া এই পরিবারে একমাত্র সন্তান নীলাঞ্জন। সামান্য ভাগচাষির ছেলের চোখে বিজ্ঞানী হওয়ার যে স্বপ্ন ছিল, আর্থিক অভাবে তা প্রায় থমকে যেতে বসেছিল। আগামী ১০ তারিখের মধ্যে ভর্তির জন্য প্রয়োজন ছিল ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা, যা একসঙ্গে জোগাড় করা এই পরিবারের পক্ষে ছিল অসম্ভব।

নীলাঞ্জনের উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ছিল অসাধারণ – ৯০ শতাংশ নম্বর নিয়ে বালুরঘাট হাইস্কুল থেকে পাশ করার পর দুর্গাপুর গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে তিনি জিওলজিতে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি আইআইটি জ্যাম পরীক্ষায় বসেন এবং মার্চ মাসে প্রকাশিত ফলাফলে তাঁর অসাধারণ সাফল্য ধরা পড়ে। আগামী দিনে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখে নীলাঞ্জন, আর তার বাবা-মায়েরও একই আশা।

এদিন নীলাঞ্জনের বাড়িতে গিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বালুরঘাট কলেজের অধ্যাপক দুলাল বর্মন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান আইআইটি পরীক্ষায় একটি ছাত্র ভালো রেজাল্ট করে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আর্থিক অভাবে তেমন কিছু করতে পারছে না। এরপর নীলাঞ্জন ও তাঁর বাবা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি আইআইটি রুরকির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর ভর্তির ব্যবস্থা করে দিই।”

সুকান্ত মজুমদারের এই মানবিক উদ্যোগ নীলাঞ্জনের আইআইটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, সঠিক সময়ে সঠিক সহায়তা পেলে মেধা কোনো আর্থিক প্রাচীরের সামনে থমকে থাকে না। নীলাঞ্জনের এই সাফল্য এবং মন্ত্রীর সহায়তা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।