বিহারের সিওয়ানে ভয়াবহ রক্তপাত, প্রকাশ্যে গুলি করে খুন ৩, ভূমি দখলের পুরনো বিবাদ?

বিহারের সিওয়ান জেলায় ফের রক্তাক্ত হল মাটি। শুক্রবার দুপুরে মালামালিয়া থানা এলাকার কৌদিয়া ব্রিজের কাছে নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনজন, এবং গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও তিনজন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চিমনির মালিকানা ও এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে পুরনো বিবাদের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রকাশ্য দিবালোকে ভয়াবহতা:
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরবেলা কৌদিয়া ব্রিজের কাছে বেশ কিছু লোক চিমনির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে জড়ো হয়েছিলেন। হঠাৎ করেই বাইকে করে আসা অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা সেখানে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আচমকা এই হামলায় এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে হুড়োহুড়ি লেগে যায়, এবং মুহূর্তেই রক্তাক্ত হন ছয়জন।

স্থানীয়দের তৎপরতায় আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সিওয়ান সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা ঘটনাস্থল থেকে আনা মুন্না সিং, কানহাইয়া কুমার এবং রোহিত কুমারকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ভূমি বিবাদ, না অন্য কিছু?
ঘটনার খবর পেয়ে মালামালিয়া পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং তদন্ত শুরু করে। ভগবানপুর থানার ইনচার্জ সুজিত কুমার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, “পারস্পরিক আধিপত্য নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে। রাজপুত এবং ভূমিহারারা এই গুলি বিনিময়ের সঙ্গে জড়িত। গুলি চলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন।” পুলিশ আরও বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকার একটি চিমনির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল, যা এই ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে, হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত একটি আক্রমণ।

এলাকায় তীব্র উত্তেজনা, অবরোধ-বিক্ষোভ:
এই ভয়াবহ ঘটনার পর গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে তারা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মালামালিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রকাশ্যে এমন নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনা বিহারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।