৬ বছর পর সফল কৈলাস-মানসরোবর যাত্রা, ৩৩ পুণ্যার্থীর নিরাপদে দেশে ফেরায় স্বস্তিতে সরকার

দীর্ঘ ৬ বছর পর এক স্বস্তির খবর নিয়ে এল কৈলাস-মানসরোবর যাত্রা। মঙ্গলবার নাথুলা সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জন পুণ্যার্থী নিরাপদে ভারতে ফিরে এসেছেন, যাদের সফল তীর্থযাত্রা সম্পন্ন হওয়ায় কেন্দ্র ও সিকিম সরকার স্বস্তি প্রকাশ করেছে। এই পুণ্যার্থীরা গত ১৭ জুন দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং নিরাপদে ফিরতে পারায় তীর্থযাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি বিরাজ করছে।

যাত্রাপথের বিবরণ:

গত ১৭ জুন দিল্লি থেকে এই ৩৩ জন তীর্থযাত্রী কৈলাস-মানসরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ১৯ জুন তারা গ্যাংটকে পৌঁছান এবং ২০ জুন নাথুলা হয়ে মানসরোবরের দিকে যাত্রা শুরু করেন। এই তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে ছিলেন বিদেশমন্ত্রক এবং ইন্দো-তিব্বতীয় সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-এর দু’জন লিয়াজো অফিসার। ITBP জওয়ানদের নিরলস প্রচেষ্টায় তারা নিরাপদে মানসরোবর পৌঁছতে সক্ষম হন।

দেশে ফেরার প্রক্রিয়া:

মানসরোবর থেকে নাথুলায় ফেরার পর প্রথমে পুণ্যার্থীদের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এরপর প্রত্যেক তীর্থযাত্রীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়। সেখান থেকে তাদের শেরথাংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ITBP জওয়ানদের তরফে তাদের জন্য খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরপর তাদের গ্যাংটকে ফিরিয়ে আনা হয়।

সিকিম সরকারের সংবর্ধনা:

গ্যাংটকে ফেরার পর বুধবার পুণ্যার্থীদের জন্য সিকিম পর্যটন উন্নয়ন নিগমের তরফে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে তীর্থযাত্রীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেন সিকিম সরকার। উপস্থিত ছিলেন সিকিমের পর্যটন দফতরের অতিরিক্ত সচিব সিএস রাও, সিকিম পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ডিরেক্টর রাজেন্দ্র ছেত্রী-সহ অন্যান্যরা। অতিরিক্ত সচিব সিএস রাও পুণ্যার্থীদের নিরাপদে ও সফলতার সঙ্গে তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করার জন্য অভিনন্দন জানান।

ডিরেক্টর রাজেন্দ্র ছেত্রী সিকিম পর্যটন উন্নয়ন নিগমকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে সবরকম ব্যবস্থা রাখার জন্য। কৈলাস-মানসরোবর ফেরত তীর্থযাত্রীরাও ITBP জওয়ান, কেন্দ্র ও সিকিম সরকারকে তাদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এই দিনই এসএনটি বাসে তাদের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।

সিএস রাও মন্তব্য করেন, “তীর্থযাত্রীরা নিরাপদে তাদের যাত্রা সম্পন্ন করেছেন। সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। ITBP জওয়ানরা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তা প্রশংসনীয়। আগামীতেও কৈলাস-মানসরোবর যাত্রার জন্য সিকিম সরকার সবরকমভাবে সাহায্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।” এই সফল যাত্রা ভবিষ্যতে আরও বহু পুণ্যার্থীকে কৈলাস-মানসরোবর যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।