গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বুমরাকে বিশ্রাম, ক্ষুব্ধ শাস্ত্রী, এজবাস্টন টেস্টে ভারতের বোলিং আক্রমণ নিয়ে বিতর্ক

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে নামার আগে ভারতীয় দল এক অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নিল – বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার জসপ্রীত বুমরাকে বিশ্রাম দেওয়া হল। তার জায়গায় এজবাস্টন টেস্টের একাদশে সুযোগ পেলেন বাংলার পেসার আকাশদীপ। শুধু বুমরাই নন, প্রথম টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়লেন আইপিএলের সর্বাধিক রানস্কোরার সাই সুদর্শন এবং পেস বোলিং অলরাউন্ডার শার্দূল ঠাকুরও। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে রীতিমতো বিতর্ক শুরু হয়েছে, বিশেষ করে প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
একাদশের রদবদল:
বুমরার অনুপস্থিতির পাশাপাশি, সাই সুদর্শন এবং শার্দূল ঠাকুরের পরিবর্তে এজবাস্টন টেস্টের একাদশে জায়গা পেয়েছেন ওয়াশিংটন সুন্দর এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি। বিভিন্ন মহল থেকে কুলদীপ যাদবকে খেলানোর পক্ষে জোরালো সওয়াল থাকলেও, চায়নাম্যান বোলারকে ছাড়াই মাঠে নামল টিম ইন্ডিয়া। ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল জানালেন, কুলদীপকে একাদশে নেওয়া নিয়ে বিস্তর আলোচনা হলেও, শেষমেশ ব্যাটিং গভীরতার কথা চিন্তা করে ওয়াশিংটন সুন্দরকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
টসে হেরে প্রথমে ফিল্ডিং:
প্রথম টেস্টের পর দ্বিতীয় টেস্টেও টসভাগ্য সঙ্গ দিল না ভারত অধিনায়ক শুভমন গিলকে। টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানালেন ইংরেজ অধিনায়ক বেন স্টোকস। গিল অবশ্য জানিয়েছেন যে, টস জিতলে তিনিও প্রথম ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তই নিতেন।
অধিনায়কের ব্যাখ্যা ও শাস্ত্রীর ক্ষোভ:
দ্বিতীয় টেস্টে বুমরার না-থাকা নিয়ে গিল বলেন, “ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের জন্যই দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে নেই বুমরা। এই ম্যাচের আগে আমরা বড় বিরতি পেয়েছি, যা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে প্রয়োজন ছিল। তৃতীয় টেস্ট লর্ডসে, সেখানে পেস বোলারদের জন্য আরও বেশি সুবিধা থাকবে বলেই মনে হয়। তাই তৃতীয় টেস্টে আমরা ওকে (বুমরা) ব্যবহার করব।”
তবে, প্রথম টেস্টে হারের পর ভারত যখন সিরিজে সমতা ফেরাতে চাইছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বুমরাকে বিশ্রামে পাঠানোর সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি ভারতীয় দলের প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী। স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এই টেস্ট ম্যাচটা ভারতের জন্য ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে হার, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে হার, এখানে প্রথম ম্যাচে হারের পর জয়ে ফিরতে চাইছে দল। এমন সময় সাত দিন বিশ্রামের পরেও বিশ্বের সেরা বোলারকে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত হজম করা কঠিন।”
বুমরা যে ইংল্যান্ড সফরে তিনটি ম্যাচই খেলবেন, তা অনুরাগীদের আগে থেকেই জানা ছিল। তবে কোন কোন ম্যাচে গুজরাত পেসার খেলবেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হবে বুমরাকে, জানানো হয়েছিল ম্যানেজমেন্টের তরফে। কিন্তু প্রথম টেস্ট হারের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম সত্ত্বেও তাকে কেন বিশ্রামে পাঠানো হল, তা নিয়ে শাস্ত্রীর মতোই ধাঁধায় রয়েছেন অনুরাগীরাও। এই সিদ্ধান্ত কি ভারতের জন্য ইতিবাচক হবে, নাকি দলের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা সময়ই বলবে।