২৫ বছরে শিয়ালদহ রাজধানী! ধুমধাম করে জন্মদিন পালন, কী গিফ্ট পেলেন যাত্রীরা?

আজ থেকে ঠিক পঁচিশ বছর আগে, ২০০০ সালের ১ জুলাই, শিয়ালদহ থেকে দিল্লি রেলপথের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। চালু হয়েছিল শিয়ালদহ-দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস, যা পূর্ব ভারতের সঙ্গে রাজধানী দিল্লির দ্রুত যোগাযোগের এক অমূল্য সংযোগ স্থাপন করে। রেলপথের ইতিহাসে এটি ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আজ, এই ২৫তম জন্মদিনটি শিয়ালদহ স্টেশনে মহাধুমধামের সঙ্গে উদযাপিত হলো।

বাঙালি সাজে রাজধানী: খাদ্য থেকে সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যের ছোঁয়া
এই বিশেষ দিনে রেলযাত্রীদের জন্য ছিল নানা ধরনের আয়োজন, যা সম্পূর্ণ বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ছোঁয়া দিয়ে সাজানো হয়েছিল। আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল বাঙালি পদ: বাসন্তী পোলাও, চিকেন কষা, পনির ডালনা, আলু পটল, নারকেল চানার ডাল, পালং পরোটা, আইসক্রিম এবং সবশেষে রসগোল্লা। পুরো অনুষ্ঠানটি যেন বাঙালির রুচি ও আতিথেয়তার প্রতিচ্ছবি ছিল।

উচ্ছ্বাসিত যাত্রী ও রেল আধিকারিকরা
বিশেষ এই দিনটিতে শিয়ালদহ স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন শিয়ালদহের ডিআরএম অনিল সাক্সেনা, শিয়ালদহের ডিপিও একলব্য চক্রবর্তী এবং ইস্টার্ন রেল ফ্যান্স ক্লাবের সদস্যরা। রেল ফ্যান্স ক্লাবের সদস্যরা এই উদযাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং পুরো অনুষ্ঠানকে আড়ম্বরপূর্ণ করে তুলেছিলেন।

যাত্রীরা স্টেশনে পৌঁছাতেই ফুলের তোড়া দিয়ে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়, যা তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি করে। তবে সবচাইতে আকর্ষণীয় ছিল ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের জন্য বিশেষ মেমেন্টো এবং স্যুভেনিয়ার টিকিট বিতরণ। এটি ছিল এক স্মরণীয় উপহার, যা এই দিনটিকে যাত্রীদের মনে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

১২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে উৎসবের আমেজ
রাজধানী এক্সপ্রেসের জন্মদিন উপলক্ষে শিয়ালদহ স্টেশনের ১২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম, যা এই ট্রেনের স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম, বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল। পুরো প্ল্যাটফর্ম এবং সংলগ্ন এলাকা ফুল ও বেলুন দিয়ে এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যেন একটি উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। এমন আয়োজন যাত্রীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস এবং আনন্দের সৃষ্টি করেছিল।

তবে, উদযাপনের মাঝেই একটি ছোট অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। প্ল্যাটফর্ম ছাড়ার পর এক যাত্রী আচমকা ট্রেনের চেন টেনে দেয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে আরপিএফ কর্তৃক আটকানো হয়। এই বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল নিখুঁত এবং সুচারুরূপে সম্পন্ন।

২৫ বছরের পথচলা: এক নতুন যুগের সূচনা
শিয়ালদহ থেকে দিল্লি রুটে রাজধানী এক্সপ্রেস চালু হওয়ার পর রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। এর আগে ১৯৬৯ সালে হাওড়া থেকে দিল্লি প্রথম রাজধানী এক্সপ্রেস চালু হলেও, শিয়ালদহ থেকে দিল্লি পর্যন্ত যাত্রা শুরু করতে অনেক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর, এই দ্রুতগামী ট্রেন চালু হয়, যা পূর্ব ভারতের যাত্রীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি করে।

২৫ বছর আগে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যখন এই রাজধানী এক্সপ্রেস চালু হয়েছিল, তখন তা ছিল ভারতের রেল যোগাযোগের উন্নতির এক বড় পদক্ষেপ। আজ ২৫ বছর পর, শিয়ালদহ-দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস একটি তরুণ, শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য বাহন হয়ে উঠেছে। এটি কেবল একটি রেলগাড়ি নয়, বরং এক প্রজন্মের স্মৃতি এবং এক জাতির মধ্যে সেতুবন্ধনের অমূল্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।