গণধর্ষণ তো ছিলই, আরও কত কী করছে মনোজিত্রা? FIR-এ যুক্ত হলো আরও ৬ ধারা

কসবা ল’ কলেজে তরুণীকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র-সহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর-এ আরও ৬টি নতুন ধারা যুক্ত করল পুলিশ। এই পদক্ষেপ মামলার তদন্তে এক নতুন মাত্রা যোগ করল এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।
প্রথমে কসবা থানা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং একসঙ্গে অপরাধ সংঘটিত করার – এই তিনটি ধারায় এফআইআর রুজু করেছিল। মঙ্গলবার আলিপুর কোর্টে তদন্তকারীদের তরফে নতুন ৬টি ধারা যুক্ত করার আবেদন জানানো হলে তা মঞ্জুর হয়। এর ফলে এখন মোট ৯টি ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে। মনোজিৎ মিশ্র ছাড়াও এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া প্রমিত মুখোপাধ্যায়, জইব আহমেদ এবং কলেজের নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী – সকলের বিরুদ্ধেই নতুন ধারাগুলো যুক্ত করা হয়েছে।
কোন কোন ধারায় মামলা চলছে?
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নতুন যে ৬টি ধারা যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলি হলো:
৭৭ নম্বর ধারা: কোনো মহিলার অজান্তে বা সম্মতি ছাড়া তাঁর ছবি তোলা অথবা সেই ছবি প্রচার করা।
১১৮(১) নম্বর ধারা: কারও উপর বিনা প্ররোচনায় আঘাত করা।
৩৫১(৩) নম্বর ধারা: অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন।
১৪০(৩) নম্বর ধারা: অপহরণ।
১৪০(৪) নম্বর ধারা: কাউকে আঘাত বা নির্যাতনের উদ্দেশ্যে অপহরণ।
১৪২ নম্বর ধারা: অপহৃত ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে লুকিয়ে রাখা বা আটকে রাখা।
এই ধারাগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিধি যেমন বাড়ল, তেমনই তাদের অপরাধের প্রকৃতিও আরও গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হবে।
আদালতের নির্দেশ ও পুলিশ হেফাজত:
মঙ্গলবার পুলিশ হেফাজত শেষ হওয়ার পর অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র এবং তার দুই সহযোগী প্রমিত ও জইবকে আরও সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ৮ই জুলাই পর্যন্ত তাদের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ চলবে। অন্যদিকে, এই মামলার আরেক অভিযুক্ত, কলেজের নিরাপত্তারক্ষী পিনাকীকে আগামী ৪ঠা জুলাই পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট।
ভুক্তভোগীর পরিচয় ফাঁসের চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা:
এদিকে, কলকাতা পুলিশ মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করে জানিয়েছে যে, নির্যাতিতার নাম-পরিচয় ফাঁস করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। লালবাজারের তরফে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়, এই ধরনের বেআইনি ও অমানবিক কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে পুলিশের দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ পেল।
এই ঘটনায় যুক্ত হওয়া নতুন ধারাগুলি তদন্তে গতি আনবে এবং নির্যাতিতাকে ন্যায় পাইয়ে দিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথের দিকে এখন সকলের নজর।