পহেলগাঁও হামলায় ভারতের কূটনৈতিক জয়, QUAD বৈঠকে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় নিরস্ত্র পর্যটকদের ওপর গত ২২ এপ্রিলের নৃশংস হামলার ঘটনায় ভারতের কূটনৈতিক মঞ্চে বড় জয় মিলেছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত কোয়াড (Quad) জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এই বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একজোটে কঠোর বার্তা দিয়েছে এই শক্তিশালী জোট।
যৌথ বিবৃতিতে সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের নিন্দা
মঙ্গলবার মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকে অনুষ্ঠিত কোয়াড বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তাকেশি ইওয়ায়া উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলো সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একইসঙ্গে, ভারতের সন্ত্রাস দমনের উদ্যোগকেও সকলে সর্বাত্মক সমর্থন জানান। তবে, মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ৪ দিনের সামরিক সংঘাতের কোনো উল্লেখ এই বিবৃতিতে করা হয়নি।
পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি
কোয়াডের বৈঠকে রাষ্ট্রনেতারা ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা করেন। ওই হামলায় ২৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং একজন নেপালি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, “মৃতদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে, আহতদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। নৃশংস এই হত্যার ঘটনায় যে ব্যক্তি এবং সংগঠন জড়িত, সময় নষ্ট না-করে তাদের শীঘ্রই বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।”
রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান
বিবৃতিতে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলির নেতাদের উদ্দেশ্যেও কোয়াডের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রাসঙ্গিক রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের অধীনে রাষ্ট্রসংঘের সমস্ত সদস্য দেশগুলিকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।” এর মাধ্যমে কোয়াড জোট আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত এবং দৃঢ় পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মহলে যে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, কোয়াড বৈঠকে এই কঠোর অবস্থানের মধ্য দিয়ে তার সফল কূটনৈতিক প্রতিফলন দেখা গেল। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।