প্রকৃতির রুদ্ররূপে বিধ্বস্ত হিমাচল, একটানা বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

প্রকৃতির ভয়াবহ রুদ্ররূপে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হিমাচল প্রদেশ। একটানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং এর ফলে সৃষ্ট মেঘ ভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে রাজ্যজুড়ে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত রয়েছে। বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু মান্ডি জেলাতেই মেঘ ভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যা হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মানবিক বিপর্যয় ও উদ্ধার অভিযান
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মান্ডি জেলায় পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আকস্মিক মেঘ ভাঙা বৃষ্টি এবং তার ফলে সৃষ্ট হড়পা বানের তোড়ে বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট ভেসে গেছে। ভারী বৃষ্টি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে উদ্ধারকারী দল নিরন্তর তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে নিখোঁজদের খুঁজে বের করার জন্য।

রাজ্যজুড়ে ভয়াবহ চিত্র: মৃতের সংখ্যা ৫১
রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ দিনে হিমাচল প্রদেশ জুড়ে চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জেরে মোট ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলছে। প্রাকৃতিক এই তাণ্ডবে ১৩টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে হড়পা বানে ভেসে গেছে, এবং আরও ৩৫টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যের ৪০৬টি সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে, যা উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ বিতরণে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।

অবিরাম ভোগান্তি: বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট
দিনের পর দিন তুমুল বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা জারি রয়েছে। বহু গ্রাম এবং শহর বিদ্যুত্বিহীন অবস্থায় রয়েছে, যা জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিদ্যুতের অভাবে পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত, যার ফলে বহু স্থানীয় মানুষ তীব্র পানীয় জলের অভাবে ধুঁকছেন। মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও বহুলাংশে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দুর্ভোগের অবসান নয় এখনই: মৌসম ভবনের পূর্বাভাস
মৌসম ভবন (IMD) প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল যে, পয়লা জুলাইয়ের পর থেকে হিমাচল প্রদেশে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে। তবে, তাদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৬ জুলাই পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশ জুড়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর অর্থ হলো, রাজ্যের মানুষের দুর্ভোগ এখনই কমছে না এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।

হিমাচল প্রদেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি জাতীয় স্তরে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ থেকে রাজ্য কবে মুক্তি পাবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিধ্বস্ত হিমাচল।