চিকিৎসক দিবসে মমতার শ্রদ্ধাঞ্জলি, বিধান রায়কে স্মরণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের কুর্নিশ

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ১লা জুলাই, জাতীয় চিকিৎসক দিবসে বাংলার কিংবদন্তি চিকিৎসক ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেবল বিধান রায়কেই নয়, এই বিশেষ দিনে চিকিৎসা সেবার সঙ্গে যুক্ত সকল স্তরের কর্মীদের প্রতিও তিনি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার নিজের ‘এক্স’ (সাবেক ট্যুইটার) হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও প্রয়াণ দিবসে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।” এই বাক্যটির ঠিক পরেই তিনি যোগ করেছেন, “সকল চিকিৎসক ও চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত সকল ভাইবোনদের জানাই জাতীয় চিকিৎসক দিবসের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তায় শুধু চিকিৎসকরা নন, বরং নার্স থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের প্রতিটি স্তরের কর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় (১ জুলাই ১৮৮২ – ১ জুলাই ১৯৬২) ছিলেন এক বিরল ব্যক্তিত্ব যিনি একাধারে ছিলেন একজন অসাধারণ চিকিৎসক, নির্ভীক স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ। ১৯৪৮ সাল থেকে আমৃত্যু, অর্থাৎ ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর চিকিৎসাগত দক্ষতা ছিল আন্তর্জাতিক মানের। ১৯১১ সালে ইংল্যান্ড থেকে MRCP এবং FRCS উপাধি অর্জনের পর তিনি কলকাতার ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল স্কুলে (বর্তমানে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ) শিক্ষকতা ও চিকিৎসা পেশা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট সদস্য, রয়্যাল সোসাইটি অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন এবং আমেরিকান সোসাইটি অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানের ফেলো নির্বাচিত হন।
শুধুই চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কাজ নয়, দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ১৯৩১ সালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি কারাবরণ করেন। তাঁর বহুমুখী প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৪২ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনীত হন। ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে আইনসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৪৮ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
চিকিৎসক দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা একদিকে যেমন বাংলারূপকার বিধানচন্দ্র রায়ের অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছে, তেমনই অন্যদিকে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি থেকে শুরু করে বর্তমান স্বাস্থ্য সংকটে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে কাজ করা সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের আত্মত্যাগ ও সেবাকে সম্মান জানিয়েছে। এটি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতারই এক প্রতিফলন।