মেয়ের বান্ধবীকে লাগাতার ধর্ষণ বাবার, সন্দেশখালিতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা

দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজের ছাত্রী নিগ্রহের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সন্দেশখালি থেকে এলো আরও এক চাঞ্চল্যকর খবর। ন্যাজাট থানা এলাকায় ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার বান্ধবীর বাবার বিরুদ্ধে। এই পাশবিক অত্যাচারে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে ওই নাবালিকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি ফাঁস না করার জন্য তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হত বলে অভিযোগ।
নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিশোরী তার মামার বাড়িতে থাকত, কারণ তার মা ও বাবা কর্মসূত্রে অন্যত্র থাকেন। গত রবিবার এলাকার একটি নির্জন জায়গায় বান্ধবীর বাবা ওই কিশোরীর উপর নির্যাতন চালাচ্ছিল। সেই সময় গ্রামের কয়েকজন মহিলা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নাবালিকার আর্তনাদ শুনতে পান। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা কিশোরীকে উদ্ধার করেন। সেই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এরপর এলাকার মানুষ এবং পরিবারের সদস্যরা ওই কিশোরীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। দিনের পর দিন অত্যাচারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষমেশ এই ভয়াবহ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে নাবালিকার পরিবার ন্যাজাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও বেশ কয়েকবার এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই নাবালিকাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হত।
অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকাইত জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তার ছবি ও পরিচয় বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি আইএসএফ-এর সমর্থক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী নিগ্রহের একের পর এক ঘটনায় জনমানসে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।