রণকৌশলগত যোগাযোগে জোর, সিকিমে বিকল্প জাতীয় সড়ক, ভারত-চিন সীমান্তে পরিকাঠামো মজবুত করছে কেন্দ্র

উত্তর-পূর্ব ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারত-চিন সীমান্ত পর্যন্ত যোগাযোগকে আরও নিরবচ্ছিন্ন ও সুদৃঢ় করতে ভারতের সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রক এবার সিকিমে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রাস্তা তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছে। এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নতিতে সহায়ক হবে, তেমনই সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রেও এর কৌশলগত তাৎপর্য অনস্বীকার্য।
মেল্লি-সিংথাম করিডর: ২১০ নম্বর জাতীয় সড়কের গুরুত্ব
কালিম্পংয়ের সন্নিকটে বাংলা-সিকিম সীমানার মেল্লি থেকে সিংথাম পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই নতুন ২১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এটি সিংথামে ৫১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা সিকিমের অভ্যন্তরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে। অতীতে দেখা গেছে, মেল্লির পর থেকে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সিকিম অংশে প্রায়শই বিশাল ধস নামে। এর ফলে সড়ক পরিবহণ ব্যাহত হয় এবং সিকিমের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা সীমান্ত সুরক্ষায় উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবেই ২১০ নম্বর জাতীয় সড়ক তৈরির প্রস্তাব আনা হয়েছিল, যা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে, বাংলা-সিকিমের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ এতটাই বেড়েছে যে তীব্র যানজট নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। উপরন্তু, তিস্তা নদীর ভাঙন ও ধসের কারণে এই সড়কটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক ড্রোন-সমীক্ষায় তিস্তার তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের তিন জায়গায় ফাটলও ধরা পড়েছে।
কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা:
এই বিকল্প সড়ক নির্মাণের ফলে পর্যটকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বর্ষার সময় গরুবাথান ও আলগাড়া হয়ে অনেকটা ঘুরপথে যাতায়াতের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন। মেল্লি থেকে সরাসরি সামারডং, মামরিং হয়ে সিংথাম ও গ্যাংটকে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা সময় ও জ্বালানি উভয়ই সাশ্রয় করবে। জানা গেছে, মেল্লিতে তিস্তা সেতুর কাছে মেল্লি বাজারে ৭১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সংযোগস্থল থেকে ২১০ নম্বর জাতীয় সড়কটি শুরু হবে এবং সিংথামে ৫১০ নম্বর জাতীয় সড়কে গিয়ে যুক্ত হবে।
সিকিমের পর্যটন মন্ত্রী শেরিং টি ভুটিয়া কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সিকিমের যোগাযোগ ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হচ্ছে। আমাদের রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রের সরকার দুটি জাতীয় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে এই ২১০ নম্বর জাতীয় সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে পর্যটকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অনেক সুবিধা হবে।” তিনি এই প্রকল্পকে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পশ্চিমবঙ্গের অংশের জন্য ভিন্ন চিত্র:
তবে, এই নতুন প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের জন্য খুব একটা সরাসরি সুবিধা বয়ে আনবে না। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক শুরু হয়েছে সেবক থেকে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের অংশে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামলে, সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে গরুবাথান ও আলগাড়া হয়েই যাতায়াত করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের অংশেও ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের স্থায়িত্ব এবং বিকল্প পথের প্রয়োজন দীর্ঘদিনের দাবি।