DA মামলা: মুখ্যসচিবকে আদালত অবমাননার নোটিস ধরানোর দাবি তুললো ৩ কর্মচারী সংগঠন

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার আরও ছয় মাস সময় চেয়ে সর্বোচ্চ আদালতে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। এর পরেই ফুঁসে উঠেছে কেন্দ্রীয় হারে DA-র দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মীদের তিন প্রধান সংগঠন। তাদের দাবি, রাজ্য সরকার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে এবং এর জন্য মুখ্যসচিবকে ‘আদালত অবমাননার নোটিস’ পাঠানো হবে।

গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল, আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া DA-র ২৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। সেই সময়সীমা বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) শেষ হয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার এই সময়ের মধ্যে বকেয়া মেটানোর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টে আরও ছয় মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছে। রাজ্যের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সরকারি কর্মচারী পরিষদ, কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ় এবং ইউনিটি ফোরাম।

কর্মচারী সংগঠনগুলির ক্ষোভ: ‘আদালত অবমাননার সামিল’

সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস দাস রাজ্যের এই পদক্ষেপকে ‘আদালত অবমাননা এড়ানোর কৌশল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “আদালতের দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও রাজ্য অন্তর্বর্তী নির্দেশ মেটাতে কোনো পদক্ষেপ করেনি। সরকার আজ ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সময় চেয়ে। আমাদের মনে হচ্ছে, রাজ্য আদালত অবমাননার দায় এড়ানোর জন্য এই পন্থা অবলম্বন করেছে। রাজ্যের দেখানো যুক্তিগুলি ভিত্তিহীন। আমরা আজকেই রাজ্যকে আদালত অবমাননার নোটিস দেবো।”

একই সুর শোনা গেছে ইউনিটি ফোরামের আহ্বায়ক দেবপ্রসাদ হালদারের গলাতেও। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, “সুপ্রিম কোর্টের ১৬ মে-র নির্দেশ মানেনি রাজ্য। তাই আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবকে আমরা আইনি নোটিস দিয়েছি।”

কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ়ের সভাপতি শ্যামল মিত্র রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, “রাজ্যের কাছে যথেষ্ট টাকা রয়েছে। কিন্তু তা দিতে চাইছে না। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চটাই এড়িয়ে যেতে চাইছে রাজ্য। তবে রাজ্যের আবেদন কতটা ধোপে টিকবে, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।” তিনিও তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্যকে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠানোর কথা জানিয়েছেন।

রাজ্যের যুক্তি: বাজেট বরাদ্দের অভাব

সর্বোচ্চ আদালতে রাজ্য সরকার পুনর্বিবেচনার আবেদনে জানিয়েছে যে, বকেয়া DA পরিশোধের জন্য যে বিশাল অর্থের প্রয়োজন, চলতি অর্থবর্ষে তার জন্য বাজেট বরাদ্দ নেই। এই আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণেই তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে অপারগ এবং এই কারণেই অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে।

তবে কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত করছে এবং আদালতের নির্দেশকে অবমাননা করছে। এবার এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ভাগ্যে বকেয়া DA জোটে কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সকলে।