‘ভারী মাথা’ নিয়েই বললেন জয় হিন্দ, মহাকাশ থেকে কী বার্তা দিলেন ভারতের শুভাংশু শুক্লা

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) পা রাখলেন ভারতীয় নভোচর গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা, যা ভারতের নিজস্ব মহাকাশ যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মহাকাশে পৌঁছানোর পর তাঁর প্রথম বার্তায় শুভাংশু জানান, আগামী ১৪ দিনের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

শুভাংশু শুক্লা তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান, মহাকাশে এসে তাঁর মাথাটা কিছুটা ভারী ভারী লাগছে, তবে তিনি আত্মবিশ্বাসী যে কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি এই নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর কাঁধে যে ভারতের জাতীয় পতাকা শোভা পাচ্ছে, তা দেখে তিনি অত্যন্ত গর্বিত।

শুভাংশু শুক্লা তাঁর প্রিয় ভারতবাসীদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন:

“আমার প্রিয় ভারতবাসীদের জন্য একটি ছোট্ট বার্তা, আপনাদের ভালোবাসা এবং আশীর্বাদে, আমি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছি। এটা সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু আমাদের মাথা একটু বেশি ভারী বলে মনে হচ্ছে, যদিও তাতে অসুবিধা নেই। কয়েক দিনের মধ্যে আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে যাব। আগামী দিনে, আমরা অনেকগুলি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাব। আমি আপনাদের সকলের সঙ্গে কথা বলতে থাকব। আমি খুবই উত্তেজিত, এবং আমি গর্বের সঙ্গে আমার কাঁধে আমার দেশের পতাকা বহন করছি। আমি মনে করি আপনারা সকলেই এই যাত্রা নিয়ে সমানভাবে উত্তেজিত। ধন্যবাদ। জয় হিন্দ। জয় ভারত।”

আইএসএস ক্রুদের উষ্ণ অভ্যর্থনা: প্রত্যাশার চেয়েও বেশি
আইএসএস-এ আগে থেকেই উপস্থিত ক্রুদের কাছ থেকে শুভাংশু যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এমন আন্তরিক অভ্যর্থনা তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে পেয়েছেন।

শুভাংশুর কথায়, “যাত্রাটা দুর্দান্ত ছিল — আমি মহাকাশে আসার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। যে মুহূর্তে আমি আইএসএস-এ প্রবেশ করে এই ক্রুদের সঙ্গে দেখা করলাম, আপনারা আমাকে এত ভালোভাবে স্বাগত জানিয়েছেন, আক্ষরিক অর্থেই যেন আপনারা আমাদের জন্য আপনাদের ঘরের দরজা খুলে দিয়েছেন। বাইরের দৃশ্য বলুন বা আপনাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা — আমার প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ।”

গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লার এই ঐতিহাসিক আগমন ভারতের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, যা ভবিষ্যতে আরও বড় মহাকাশ অভিযানের পথ প্রশস্ত করবে।