“উপার্জন করলেও স্বামীর কাছে ভরণপোষণ চাইতে পারেন স্ত্রী”-জানালো বম্বে হাইকোর্ট

স্ত্রী উপার্জন করলেও স্বামীর কাছ থেকে তাঁর ভরণপোষণ বাবদ টাকা পাওয়ার অধিকার রাখেন। সম্প্রতি একটি পারিবারিক মামলায় এমনই এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের রায়ে আরও বলা হয়েছে, বিবাহিত জীবনে একজন মহিলা যে জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত ছিলেন, বিবাহবিচ্ছেদের পর যদি তা বজায় রাখার মতো পর্যাপ্ত উপার্জন তাঁর না থাকে, তাহলে স্বামীর অবশ্যই তাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি বম্বের পারিবারিক আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এক ব্যক্তি বিবাহবিচ্ছেদের একটি মামলা বম্বে হাইকোর্টে দায়ের করেছিলেন। কিন্তু বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপান্ডে সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। মুম্বইয়ের ওই ব্যক্তিকে পারিবারিক আদালত নির্দেশ দিয়েছিল বিবাহবিচ্ছেদের পর স্ত্রীকে প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা ভরণপোষণ দেওয়ার জন্য। এই রায়কেই চ্যালেঞ্জ করে ওই ব্যক্তি বম্বে হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
স্বামীর অভিযোগ এবং আইনজীবীদের সওয়াল
ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল ২০১২ সালের ২৮শে নভেম্বর। স্বামীর অভিযোগ ছিল, ২০১৫ সাল থেকে স্ত্রী তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন, যার ফলে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি ঘটে। এমনকি স্ত্রীর ইচ্ছানুযায়ী একটি নতুন ফ্ল্যাটও কিনেছিলেন ওই ব্যক্তি, কিন্তু তাতেও স্ত্রীর মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। উল্টে তিনি এমন কিছু শর্ত আরোপ করেছিলেন যা পূরণ করা ওই ব্যক্তির পক্ষে অসম্ভব ছিল।
স্বামীর পক্ষের আইনজীবী শশীপাল শঙ্কর আদালতে সওয়াল করেন যে, স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা এবং মাসে ২১,৮২০ টাকা আয় করেন। এছাড়াও, টিউশন পড়িয়ে তিনি অতিরিক্ত বার্ষিক ২,০০,০০০ টাকা আয় করতেন। এ ছাড়াও, তিনি স্থায়ী আমানতের সঞ্চয় থেকে মোটা অঙ্কের সুদ পান, যা তাঁর জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট।
অন্যদিকে, স্ত্রীর আইনজীবী এসএস দুবে আদালতে জানান, স্বামী একটি নামী কোম্পানিতে কর্মরত এবং তাঁর বেতন কয়েক লক্ষ টাকা। এছাড়াও তাঁর আরও কিছু আর্থিক সম্পদ রয়েছে। এতকিছুর পরেও তিনি স্ত্রীকে তাঁর প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছেন।
আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
আদালত এই প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। আদালত জোর দিয়ে বলেছে যে, স্ত্রী উপার্জন করেন শুধুমাত্র এই কারণে তাঁকে স্বামীর সাহায্য থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আদালত আরও লক্ষ্য করেছে যে, স্বামী ও স্ত্রীর আয়ের মধ্যে একটি বড় ব্যবধান রয়েছে। বম্বে হাইকোর্টের এই রায় বিবাহবিচ্ছেদের পর মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষার অধিকারকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।