“পুরির মন্দিরে ঢুকতে না পেরে নিজের মন্দির তৈরি করেছেন মমতা!” শুভেন্দুর বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে ঝড়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, দিঘায় নির্মীয়মাণ জগন্নাথ মন্দির আদতে কোনো উপাসনালয় নয়, বরং একটি ‘কালচারাল সেন্টার’ বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। শুভেন্দুর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজ্য-রাজনীতিতে রীতিমতো তুলকালাম শুরু হয়েছে।
পুরী-প্রসঙ্গে দিঘার মন্দির:
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তিনি স্পষ্টভাষায় বলেন, “মমতাকে পুরীর মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে দিঘায় মন্দির করেছেন।” এই অভিযোগের মাধ্যমে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রোশ এবং ধর্মীয় রাজনীতির খেলায় লিপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে, পুরীর মন্দিরে প্রবেশ নিয়ে অতীতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার জেরেই দিঘায় এই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর দাবি অনুযায়ী, এটি কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস বা ভক্তিমূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ক্ষোভের প্রতিফলন।
‘মন্দির নয়, কালচারাল সেন্টার’:
অধিকারীর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য ছিল দিঘার নির্মীয়মাণ কাঠামোর পরিচিতি নিয়ে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ওটা মন্দির নয় ওটা একটা কালচারাল সেন্টার।” এই দাবি একদিকে যেমন রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে, তেমনই অন্যদিকে ধর্মপ্রাণ মানুষের ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারে। সাধারণত, কোনও মন্দির নির্মাণ হলে তা ধর্মীয় উপাসনার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়। কিন্তু বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্য প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়েই সংশয় তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক মহলে ঝড়:
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো ঝড় উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, শাসকদলের অন্দরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অনেকেই মনে করছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য রাজ্য-রাজনীতিতে মেরুকরণের চেষ্টা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ‘কালচারাল সেন্টার’ বলার বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরাও শুভেন্দুকে পাল্টা আক্রমণ করতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব:
দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। একদিকে যখন রাজ্য সরকার দিঘার মন্দিরকে রাজ্যের অন্যতম ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, তখনই বিরোধী দলনেতার এই ধরনের মন্তব্য নিঃসন্দেহে শাসকদলের পরিকল্পনায় বড়সড় আঘাত। ধর্মীয় ভাবাবেগ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।