মৃত্যুর আভাস পেয়ে গেলেন খামেনেই? কারা হবেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা?

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি অস্বস্তিতে ভুগছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই? ইজরায়েলের হুমকি আর যুদ্ধের উত্তাপে প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা ক্রমেই প্রবল হচ্ছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মনে—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন।

সূত্রের খবর, তেহরানের রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে দূরে, এক অজ্ঞাত বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়ে খামেনেই ইতিমধ্যেই নির্ধারণ করেছেন তাঁর তিনজন সম্ভাব্য উত্তরসূরি। যদি কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটে, তাঁদের মধ্য থেকেই কেউ একজন বসবেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার আসনে।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা খামেনেই ইসলামিক বিপ্লবের এক মুখ্য ধারক। তবে ইজরায়েলের সাম্প্রতিক হুমকি ও খুনের ছক তাঁকে চাপে ফেলে দিয়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ‘টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন’-এর হুমকি দিয়েছেন। এমনকি ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ সরাসরি বলেন, “খামেনেইয়ের পরিণতিও সাদ্দাম হুসেনের মতোই হবে।” এই পরিস্থিতিতে নিজেকে গোপন আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছেন খামেনেই।

কে হবেন খামেনেইয়ের উত্তরসূরি?
নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করছে, খামেনেই যে তিনজনকে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তাঁরই পুত্র মোজতাবা খামেনেই। কট্টরপন্থী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী মোজতাবা দীর্ঘদিন ধরেই শাসক শিবিরের মূল মগজস্তম্ভ হিসেবে কাজ করে চলেছেন।

দ্বিতীয় নাম হিসেবে উঠে আসছে আলিরেজা আরাফির। খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ এবং ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এই আলিরেজা, বয়সে খানিক বেশি হলেও অভিজ্ঞতায় এবং আনুগত্যে এগিয়ে।

তালিকার তৃতীয় নামটি হল হাশেম হুসেইনি বুশেরি। প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার জন্য তিনি খামেনেইয়ের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন বিগত কয়েক বছরে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, উদ্বেগে গোটা অঞ্চল
এই মুহূর্তে খামেনেই কোথায় রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। বাঙ্কারের ভেতর থেকেই সীমিতভাবে নির্দেশ দিচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর সম্ভাব্য মৃত্যু বা অপসারণ ইরানে এক নতুন রাজনৈতিক সঙ্কটের জন্ম দিতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বজুড়ে তাই চোখ এখন তেহরানের দিকেই—খামেনেই নিজে বেঁচে থাকবেন তো? আর যদি না-ও থাকেন, তবে তাঁর উত্তরসূরি কেমন পথে হাঁটবেন?