আমেরিকায় হামলার পর ইরানের প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি, হাই অ্যালার্ট জারি হলো ওয়াশিংটনে

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এবার সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে নামল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার গভীর রাতে (ভারতীয় সময় শনিবার ভোরে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রে বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। এই হামলায় মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী নন-নিউক্লিয়ার বোমা, GBU-57 ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই অভিযানের সাফল্যের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “দেশের জন্য এ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। অন্য কোনও দেশের সেনাবাহিনী এমন অভিযান আগে চালাতে পারেনি।” ট্রাম্পের দাবি, ফোরদো, নাতানজ এবং ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে সফলভাবে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে এবং হামলার পর সমস্ত মার্কিন বিমান নিরাপদে ইরানের আকাশসীমা ত্যাগ করেছে। একই পোস্টে ট্রাম্প শান্তির বার্তাও দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন হামলায় তেহরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই হামলার “শেষ দেখে ছাড়া হবে” এবং এখন থেকে “প্রত্যেক আমেরিকান এবং সে দেশের সেনা তাদের নিশানায়” থাকবে। এর আগে ইসরায়েলের উপর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়, যার জেরে তেল আবিবে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মধ্য ইসরায়েল এবং জেরুজালেমেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর।

GBU-57 ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ ব্যবহার: ধ্বংসের ক্ষমতা কতটা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ৫ থেকে ৬টি GBU-57 ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মার্কিন সমরাস্ত্র ভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় নন-নিউক্লিয়ার বোমা হিসেবে পরিচিত, যা মাটির গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তু বা অত্যন্ত সুরক্ষিত বাঙ্কার ধ্বংসে সক্ষম। এই শক্তিশালী বোমার ব্যবহার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর উপর আমেরিকার আঘাত হানার সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।

নেতানিয়াহুর অভিনন্দন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা?

মার্কিন হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলি ইসরায়েলেরও মূল লক্ষ্য ছিল, তবে ট্রাম্পের পূর্বেকার দাবি ছিল যে ইসরায়েলের ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রের গভীরে আঘাত হানার “দম” নেই। এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকার সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ওয়াশিংটন এবং নিউ ইয়র্কের মতো আমেরিকার বড় শহরগুলিতে ইতিমধ্যেই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে, যা প্রত্যাঘাতের আশঙ্কার ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এখন এই ঘটনার পরিণতি নিয়ে কাটাছেঁড়া করছেন। এটি কি কেবল একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল, তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। উল্লেখ্য, আমেরিকা ইরানকে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছিল, কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা।