ট্রাম্পের নৈশভোজ প্রত্যাখ্যান করে ওড়িশায় মোদি, মহাপ্রভুর ভূমিই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে মহাপ্রভু জগন্নাথের ভূমিতে আসাটাই যে তাঁর কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, সেই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওড়িশায় বিজেপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই দাবি করেন, যা উপস্থিত জনতার মধ্যে প্রবল উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

G7 সম্মেলন থেকে ওড়িশার জনসভা: মোদির কূটনৈতিক বার্তা
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “দু’দিন আগেই আমি কানাডায় G7 বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলাম। তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাকে ফোন করেন। উনি আমাকে বলেন, আপনি তো কানাডায় এসেছেন, তাহলে ওয়াশিংটন হয়ে ফিরুন। আমরা একসঙ্গে নৈশভোজ করতে করতে কথা বলব।”

মোদি আরও জানান, ট্রাম্প রীতিমতো জোরাজুরি করছিলেন আমন্ত্রণ রক্ষার জন্য। কিন্তু তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সবিনয়ে জানান, “নিমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু আমার কাছে মহাপ্রভুর ভূমিতে যাওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিনম্র ভাবে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছি। আপনাদের ভালবাসা এবং মহাপ্রভুর প্রতি আপনাদের ভক্তির জন্যই আজ আমি এই ভূমিতে পা রাখতে পেরেছি।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য জনতাকে উচ্ছ্বসিত করে তোলে।

উল্লেখ্য, G7 শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কানাডায় গেলেও ট্রাম্প আগে ফিরে যাওয়ায় মোদির সঙ্গে তাঁর মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়নি। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির এটিই ছিল প্রথম ফোনালাপ, যা প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে চলে।

ওড়িশার ‘সুশাসন’ ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস
বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ওড়িশা সরকারের এক বছরের কার্যকালের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, বিজেপি সরকার ওড়িশার মানুষের স্বপ্নপূরণ করেছে, কারণ জগন্নাথ মন্দিরের চারটি গেট এবং রত্নভাণ্ডার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, গত এক বছরে ওড়িশা সরকার সুশাসন উপহার দিয়েছে এবং সরকারি পরিষেবার মানও উন্নত হয়েছে।

এদিন ওড়িশায় ১০৫টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এছাড়াও, তিনি বেশ কয়েকটি নতুন ট্রেনেরও উদ্বোধন করেন, যা রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ওড়িশা সফর একদিকে যেমন রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে, তেমনই মহাপ্রভুর প্রতি তাঁর ভক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার চেষ্টাও স্পষ্ট।

Editor001
  • Editor001