জমি বিবাদের জেরে মর্মান্তিক খুন: ভাগচাষীর হাতে মালিকের মৃত্যু, ফলতায় চাঞ্চল্য

জমি চাষ নিয়ে বচসার জেরে মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা থানার জালালপুর এলাকায়। ভাগচাষীর হাতে খুন হয়েছেন জমির মালিক সুনীল হালদার (৬০)। শুক্রবার বিকেলে মাঠের মধ্যে সুনীলবাবুর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ভাগচাষী কার্তিক কালসাকে গ্রেফতার করেছে।
৯ বছরের সম্পর্কের করুণ পরিণতি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুনীল হালদারের জমিতে গত ৯ বছর ধরে ভাগচাষ করতেন কার্তিক কালসা। কিন্তু, এবারের মরসুমে জমির মালিক কার্তিককে চাষ করতে বারণ করেছিলেন। এই বিষয় নিয়েই দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিবাদ চলছিল। শুক্রবার বিকেলে সুনীল হালদারকে একা পেয়ে কার্তিক কালসা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরই অভিযুক্ত কার্তিক কালসা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত জালালপুরের মাঠে এসে সুনীল হালদারের দেহ উদ্ধার করে। এরপর এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ কার্তিক কালসাকে এলাকা থেকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কার্তিক পুলিশের কাছে খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।
খুনের অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা, পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন
যদিও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি এখনও উদ্ধার হয়নি। পুলিশ মনে করছে, খুনের অস্ত্রটি উদ্ধার করতে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে কার্তিক কালসাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন। শনিবার ধৃতকে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে।
এই ঘটনা জালালপুর এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, দীর্ঘদিনের পরিচিত ভাগচাষী কীভাবে এমন নৃশংস কাণ্ড ঘটাতে পারে। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে ফলতা থানার পুলিশ।