“ট্রাম্প বললেন, ওয়াশিংটন আসুন-ডিনার করুন, কিন্তু আমি…?”- প্রধানমন্ত্রী মোদী যা বললেন

এক বিরল রাজনৈতিক ঘটনায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওয়াশিংটনে নৈশভোজের আমন্ত্রণ সবিনয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি ওড়িশার ‘মহাপ্রভুর পবিত্র ভূমিতে’ ফিরে আসার আবশ্যকতাকে তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার ভুবনেশ্বরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, কানাডায় জি-সেভেন সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ফোন করে ওয়াশিংটনে নৈশভোজ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্পের প্রস্তাব ছিল, যেহেতু মোদী কানাডায় এসেছেন, তাই ওয়াশিংটন হয়ে যাওয়াই সুবিধাজনক হবে।

কিন্তু মোদী ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ওড়িশার এই পবিত্র ভূমিতে মহাপ্রভুর আশীর্বাদ নেওয়াটা আমার কাছে অনেক বেশি জরুরি। আপনাদের ভালোবাসা আর মহাপ্রভুর প্রতি ভক্তিই আমাকে এই পবিত্র ভূমিতে টেনে এনেছে।” তাঁর এই মন্তব্য জনসভায় উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

এই জনসভা ছিল ওড়িশায় বিজেপি সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে। ২০২৪ সালের জুনে ওড়িশায় বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী এই নিয়ে মোট ৬ বার রাজ্য সফরে এসেছেন, যা ওড়িশার প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্বের ইঙ্গিত বহন করে।

এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ১০৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, যার সম্মিলিত মূল্য ১৮,৬০০ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে পানীয় জল এবং সেচ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, গ্রামীণ রাস্তা ও সেতু, জাতীয় সড়ক এবং রেল পরিকাঠামো সংক্রান্ত একাধিক বৃহৎ প্রকল্প।

এছাড়াও, তিনি ‘ওড়িশা ভিশন ডকুমেন্ট’ নামের একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা-পত্র প্রকাশ করেন, যা আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়নের রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ওড়িশার উন্নয়নে কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “ওড়িশা এখন পরিবর্তনের পথে। উন্নয়নই একমাত্র লক্ষ্য। আপনাদের আশীর্বাদ ও মহাপ্রভুর কৃপায় এই পবিত্র ভূমি এখন নতুন আলোর দিশা দেখাচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন তাঁর আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন, তেমনি ওড়িশার প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত সংযোগ এবং রাজ্যের উন্নয়নে তাঁর দৃঢ় প্রতিজ্ঞাও তুলে ধরছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে ওড়িশাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।