কবে শুরু হচ্ছে অম্বুবাচী যোগ? জেনেনিন এর দিনক্ষণ

বাঙালির জীবনে বর্ষার আগমন মানেই অম্বুবাচী। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, সূর্যদেব আর্দ্রা নক্ষত্রে গমন করলেই বর্ষাকাল শুরু হয়, এবং এই সময় ধরিত্রীমাতা বর্ষার জলে সিক্ত হয়ে উর্বরা হয়ে ওঠেন। ধরিত্রীমাতার এই সিক্ত হওয়াকে প্রতীকী অর্থে পৃথিবীর ‘ঋতুমতী’ হওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়। ‘অম্বুবাচী’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ‘জলবৃদ্ধি’। মৃগশিরা নক্ষত্রের তৃতীয় পদের শেষে, অর্থাৎ চতুর্থ পদে সূর্য গমন করলেই অম্বুবাচীর প্রবৃত্তি বা শুরু হয়।
অম্বুবাচী তিথি ও প্রচলিত বিশ্বাস
শাস্ত্রীয় মতে, পৃথিবীর এই ঋতুমতীদশা তিন দিন ধরে পালিত হয়। এই তিন দিন যাবত সকল প্রকার মাঙ্গলিক ও শুভ কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। বিবাহ, উপনয়ন, অন্নপ্রাশন, গৃহপ্রবেশ, বা গৃহারম্ভের মতো শুভ কাজ এই সময়ে করা হয় না। এছাড়াও, কৃষিকাজ সংক্রান্ত কোনও কাজ, যেমন জমি কর্ষণ, বীজ রোপণ ইত্যাদিও এই তিন দিন নিষিদ্ধ থাকে। চতুর্থ দিন থেকে সমস্ত বাধা উঠে যায় এবং শুভ কাজ শুরু করা যেতে পারে।
এবছর, আগামী ২২ জুন, রবিবার অম্বুবাচী প্রবৃত্তি অর্থাৎ শুরু হচ্ছে।
কামাখ্যা মন্দিরে বিশেষ উৎসব
অম্বুবাচী তিথিতে আসামের সতীপীঠের অন্যতম দেবী কামাখ্যা মন্দিরে বিশেষ উৎসব পালন করা হয়। এই সময় মন্দির বন্ধ থাকে এবং ভক্তরা দেবীর এই বিশেষ দশা উপলক্ষে পূজা-অর্চনা করেন। অম্বুবাচীর পর মন্দির পুনরায় খোলা হয় এবং ভক্তদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করা হয়।
অম্বুবাচী মূলত ধরণীর উর্বরতা ও নবজীবনের সূচনার এক প্রাচীন প্রতীকী উদযাপন। এই সময়ে প্রকৃতিকে সম্মান জানিয়ে এবং তার উর্বরতা শক্তিকে স্বীকৃতি দিয়ে কিছু প্রথা ও নিয়ম পালন করা হয়।