OMG! বউমার কাছে গুড় চাইতেই শাশুড়িকে বেধড়ক মার্, ছেলের বিরুদ্ধে থানায় গেলেন মা

এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্তম্ভিত মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার আব্দুলপুর এলাকা। বউমার কাছে সামান্য গুড় চাওয়াতেই এক বৃদ্ধা মায়ের কপালে জুটল শারীরিক নির্যাতন এবং দু’দিন ধরে ঘরে বন্দি থাকার মতো অমানবিক দণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, ছেলে নিজেই এই পাশবিক কাণ্ড ঘটিয়েছে।
অরুণা বেওয়া (৬৫) নামে ওই বৃদ্ধা জানান, গত রবিবার তিনি তাঁর বউমার কাছে একটু গুড় চেয়েছিলেন। আর তাতেই হঠাৎ করে প্রচণ্ড রেগে যান তাঁর একমাত্র ছেলে তোহিদুল মণ্ডল। অরুণা দেবীর অভিযোগ, ছেলে তাঁকে চোখে, মুখে, নাকে কিল, চড়, ঘুষি মারতে থাকে। বৃদ্ধার মুখে গভীর কালশিটে পড়ে গেছে এবং তিনি চোখেও ঝাপসা দেখছেন বলে জানিয়েছেন।
আক্রান্ত অরুণা বেওয়া আরও বলেন, “গত পৌষ মাসে আমার একমাত্র ছেলে জোর করে আমার সমস্ত জমি-জায়গা নিজের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়েছে। তারপর থেকেই ছোট ছোট বিষয় নিয়ে মারধর শুরু করে। কিন্তু এবার সহ্যের সীমা পেরিয়ে গিয়েছে।” এই অভিযোগ থেকে বোঝা যায়, সম্পত্তির লোভেই এই ধরনের অমানবিক আচরণ শুরু হয়েছে।
শুধু শারীরিক নিগ্রহতেই শেষ হয়নি অত্যাচার। অরুণা বেওয়া অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর থেকে টানা দু’দিন তাঁকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। কোনোমতে সেই ঘর থেকে পালিয়ে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে অরুণা দেবী প্রথমে হরিহরপাড়া তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি অফিসে যান এবং ঘটনার কথা জানান। তবে সেখানেও তিনি কোনো সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ। এরপর তিনি বাধ্য হয়ে হরিহরপাড়া থানার দ্বারস্থ হন।
এই অমানবিক ঘটনায় হরিহরপাড়া থানায় তোহিদুল মণ্ডলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এক মায়ের প্রতি ছেলের এমন অমানবিক আচরণ সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই ঘটনা পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সম্পত্তির লোভে মানবিকতা হারানোর এক দৃষ্টান্ত। পুলিশি তদন্তের পর সত্য উদঘাটন এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই কাম্য, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।