ভারতের ভুল মানচিত্র পোস্ট করে বিপাকে ইজরায়েলের সেনা! ক্ষমা চাইল IDF

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এবার নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বোঝাতে গিয়ে ভারতের একটি ভুল মানচিত্র পোস্ট করে বিপাকে পড়েছে ইজরায়েলের ডিফেন্স ফোর্স (IDF)। মানচিত্রে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানোয় ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিতর্ক শুরু হওয়ার পর শনিবার ভারতের কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইজরায়েলি সেনা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার, যখন IDF তাদের এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে ইরানের মিসাইলের পাল্লা বোঝাতে একটি মানচিত্র পোস্ট করে। এই মানচিত্রে সৌদি আরব, লিবিয়া, ইথিওপিয়া, ভারত, চিন, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, রাশিয়া, কাজাখস্তান এবং তুরস্কের সীমানা দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় ব্যবহারকারীরা দ্রুত লক্ষ্য করেন যে, ভারতের মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভুলভাবে দেখানো হয়েছে এবং এটিকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
মুহূর্তের মধ্যে এই পোস্টটিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ঝড় ওঠে। বহু ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন। পোস্টের নিচে একজন ভারতীয় নাগরিক মন্তব্য করেন, “এখন সকলে বুঝতে পারছে কেন ভারত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে চলে। কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেউ বন্ধু হয় না।” এই মন্তব্যের উত্তরে IDF-এর পক্ষ থেকে লেখা হয়, “অঞ্চলটি বোঝানোর জন্য এই মানচিত্রটি পোস্ট করা হয়েছে। তবে, সীমানাটি সঠিকভাবে বর্ণনা করা হয়নি। এই পোস্টের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।”
Iran is a global threat.
Israel is not the end goal, it’s only the beginning. We had no other choice but to act. pic.twitter.com/PDEaaixA3c
— Israel Defense Forces (@IDF) June 13, 2025
ভারত বরাবরই স্পষ্ট করে বলেছে যে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ, যার কিছু অংশ কয়েক দশক ধরে পাকিস্তান এবং চিন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে, সেগুলোকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। গত মে মাসে পহেলগাঁও হামলা এবং তারপরে অপারেশন সিঁদুরের ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী মোদিও একই বিষয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে, এবং উভয় দেশই একে অপরের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী কর্তৃক ভারতের সীমান্তের একটি ভুল মানচিত্র পোস্ট করা, যেখানে ইরানকে বিশ্বব্যাপী ‘বিপদ’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তা কূটনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।