ISRLvsIRN: তেল আভিভে ইরানের মিসাইল অ্যাটাক, পালটা হামলা শুরু করলো ইজরায়েল

শুক্রবার ইরানের উপর ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার পর, শনিবার ভোরে তেল আবিব এবং জেরুজালেমে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল জনপদ। ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবের একাধিক স্থানে সরাসরি আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের দুই চির-প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে সংঘাতকে এক নতুন, বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল শুক্রবার সকালে। ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরান ও সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটিগুলি। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এই হামলায় ইরানের সেনাবাহিনী রেভলিউশনারি গার্ডের প্রধান হোসেন সালামি নিহত হন। একই হামলায় ছয়জন পরমাণু বিজ্ঞানীও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা যায়, যা তেহরানে চরম ক্ষোভের জন্ম দেয়।
ইসরায়েলি হামলার পরই ইরান পালটা প্রত্যাঘাত শুরু করে। ইসরায়েলি সেনার তরফে জানানো হয়, ইরানের তরফে প্রায় ১০০টি ড্রোন ইসরায়েলের দিকে তাক করে ছাড়া হয়েছে। এর পরপরই ইসরায়েল আবারও ইরানের উপর আকাশপথে হামলা চালায়। রাতে ইজরায়েলি সেনা নতুন করে হামলা চালিয়েছে তেহরানের কাছে কারাজ, এবং দক্ষিণ ও পশ্চিম তেহরানে। এরপর থেকেই ইরানের আরও বড় প্রত্যাঘাতের আশঙ্কা জোরালো হচ্ছিল।
অবশেষে সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো শনিবার ভোরে। তেল আবিভে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার খবর নিশ্চিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই বৃহত্তম প্রতিপক্ষের মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেরুজালেমেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা সেখানকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
আকাশসীমা বন্ধ, স্তব্ধ বিমান পরিষেবা:
এই ভয়াবহ সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এবং ইরাক নিজেদের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বিমান পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। একাধিক উড়ান সংস্থা নিজেদের বিমান পরিষেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে, যার জেরে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।
যত সময় যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যেন যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলা এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সামরিক নেতার নিহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে আঞ্চলিক সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন এই পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে।