নির্মীয়মাণ বাড়িতে নিয়েছিল আশ্রয়, বাংলায় পাকড়াও ২৩ রোহিঙ্গা

শুক্রবার সকালে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বাদুড়িয়ার লবঙ্গ গ্রাম যেন এক ‘সন্দেহ-সতর্কতা-সাফল্যের’ গল্পের সাক্ষী হলো। গ্রামবাসীদের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালানোর ছক কষার আগেই ধরা পড়লেন ২৩ জন রোহিঙ্গা, যাদের মধ্যে দুজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাও রয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে লবঙ্গ গ্রামের একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে হঠাৎ করেই বহু অচেনা মানুষের ভিড় লক্ষ্য করেন গ্রামবাসীরা। সাধারণ অবস্থায় এমন জনসমাগম না থাকায় গ্রামবাসীদের মনে সন্দেহ জাগে। দল বেঁধে গ্রামের লোকজন ওই বাড়িতে জড়ো হন এবং দেখেন, পুরুষ, মহিলা ও শিশুসহ অনেকেই রাতারাতি সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন।

খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানও ঘটনাস্থলে চলে আসেন। আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তারা সকলেই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্য। প্রায় দশ বছর আগে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং এতদিন হায়দরাবাদে বসবাস করছিলেন। সেখানে তারা মূলত কাগজ ও প্লাস্টিক কুড়োনোর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহেই এই রোহিঙ্গারা হায়দরাবাদ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা। সেই লক্ষ্যেই তারা লবঙ্গ গ্রামের এই নির্মীয়মাণ ফাঁকা বাড়িটিকে অস্থায়ী আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সুযোগ বুঝে তারা সীমান্ত টপকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু গ্রামবাসীদের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

গ্রামবাসীরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ২৩ জন রোহিঙ্গাকেই গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা দুই মহিলাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তাদের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে।

পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি হাকিম শেখ বলেন, “খালি ঘরে রাতারাতি অচেনা লোক থাকতে শুরু করেছিল। তাদের দেখে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। আমরা পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ ওদের গ্রেপ্তার করেছে। প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।”

বসিরহাট জেলার পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।”

এই ঘটনা আবারও অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মানব পাচারের মতো জটিল বিষয়গুলিকে সামনে নিয়ে এলো। গ্রামবাসীদের সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপের ফলেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড ব্যর্থ হলো, যা স্থানীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।