স্ত্রীর ‘অত্যাচারে’ হাতকড়া পরেই চা বেচছেন স্বামী, জেনেনিন ‘অসহায়’ স্বামীর করুন কাহিনী?

সাম্প্রতিককালের অতুল সুভাষ, সৌরভ-মুসকান, কিংবা সোনম-রাজা রঘুবংশী মামলার মতো ঘটনাগুলো সমাজে পণ প্রতারণা বা বধূ নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, তারই এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন রাজস্থানের অন্তা এলাকার বাসিন্দা কে কে ধাকড়। স্ত্রীর দায়ের করা এক মিথ্যা মামলায় নাজেহাল হয়ে তিনি এক অভিনব প্রতিবাদ শুরু করেছেন।
কে কে ধাকড় নামে এই চা বিক্রেতা তার শ্বশুরবাড়ির সামনেই একটি ছোট চা-এর দোকান খুলেছেন। দোকানের নাম রেখেছেন ‘IPC-498A টি ক্যাফে’, যা ভারতীয় দণ্ডবিধির বধূ নির্যাতনের মামলার ধারাটিকে নির্দেশ করে। সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো, এই দোকানে তিনি হাতে হাতকড়া পরে চা তৈরি ও বিক্রি করেন! তাঁর দোকানের হোর্ডিংয়ে লেখা, ‘যতক্ষণ না ন্যায় মিলবে, ততক্ষণ চা ফুটবে’, যা তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে। এমনকি, দোকানের বাইরে বরবেশে সজ্জিত একটি কাটআউট রাখা হয়েছে, যার হাতেও হাতকড়া পরানো, যা বহু পণ মামলার শিকার স্বামীদের অসহায় অবস্থাকে প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তুলছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, কে কে ধাকড়ের স্ত্রী মীনাক্ষী অভিযোগ করেছেন যে, স্বামী তার নাম করে বাজার থেকে অনেক টাকার ঋণ নিয়েছেন। এই মামলার জের ধরে গত তিন বছর ধরে কে কে ধাকড়কে আদালতের চক্কর কাটতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে তিনি তার UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতিও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য এই চা-এর দোকান দিয়েছেন। তবে এটি কেবল রোজগারের মাধ্যম নয়, বরং কে কে ধাকড়ের জীবনকাহিনি এবং সমাজে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্ল্যাটফর্মও বটে।
কে কে ধাকড়ের সংগ্রামী জীবন:
২০১৮ সালের ৬ জুলাই মধ্যপ্রদেশের নীমজ জেলার উঠানা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণকুমার ওরফে কে কে ধাকড়ের সঙ্গে রাজস্থানের বরা জেলার অন্তা নিবাসী মীনাক্ষীর বিবাহ হয়। ২০১৯ সালে কে কে ধাকড় অন্তা থেকে মৌমাছি প্রতিপালনের ট্রেনিং নেন। এরপর মধ্যপ্রদেশে ফিরে এসে এই দম্পতি মৌমাছি প্রতিপালনের ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাদের ব্যবসা বাড়তে থাকে এবং তারা বহু মহিলাকে কাজে লাগিয়ে তাদের স্বনির্ভর করে তোলেন। মধু বিক্রি করে তারা বেশ লাভবানও হচ্ছিলেন।
কিন্তু ২০২২ সালে কে কে ধাকড়ের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। তার স্বামী বিরক্ত হয়ে মীনাক্ষী বাড়ি ছেড়ে চলে যান। কয়েক মাস পর তিনি কে কে ধাকড়ের বিরুদ্ধে গৃহবধূ নির্যাতন এবং পণ প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। তারপর থেকেই কে কে ধাকড় আইন-আদালতের চক্কর কাটছেন এবং তার ব্যবসা লাটে উঠেছে।
আজ তক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কে কে ধাকড় বলেন, “সৌরভ-মুসকান মামলা থিতিয়ে যেতে না যেতেই সোনম-রাজার ঘটনা প্রকাশ্যে এল। মহিলাদের হাতে ইদানিং স্বামীরা নির্যাতিত হন। আমার সঙ্গেও এমনই ঘটনা ঘটেছে। সব বরবাদ হয়ে গিয়েছে আমার।” তিনি আরও বলেন, “অনেকবার মনে হয়েছে আত্মহত্যা করি। কিন্তু আমার বয়স্ক মা-ই একমাত্র ভরসা। তাই মা-এর মুখের দিকে তাকিয়ে চা-এর ব্যবসা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। একইসঙ্গে সমাজের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছি।”
কে কে ধাকড়ের এই অভিনব প্রতিবাদ সমাজের এমন একটি স্পর্শকাতর দিককে তুলে ধরছে, যেখানে পুরুষরাও অনেক সময় মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। তার এই উদ্যোগ কতটা সাড়া ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।