বিশেষ: স্বাস্থ্যবিমা কেনার আগে নজর রাখুন এই বিষয়, ভুল হয়ে গেলে মিলবে না Claim -এর টাকা

দিনের পর দিন বাড়ছে চিকিৎসার খরচ, আর তাই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ভরসা রাখতেই হয় স্বাস্থ্যবিমার ওপর। ক্যাশলেস হোক বা রিইমবার্সমেন্ট, স্বাস্থ্যবিমা চিকিৎসার বড় খরচ কভার করে নিঃসন্দেহে। কিন্তু অনেক সময়ই গ্রাহকদের অভিযোগ থাকে—নিয়মিত প্রিমিয়াম দেওয়ার পরও কভারেজ মেলেনি। কেন এমন হয়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমা কেনার সময় তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি থাকলে পরে ক্লেইম পেতে এমন সমস্যা হতে পারে। ‘এই সময় অনলাইন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের বিমা উপদেষ্টা ছোটন আইচ স্পষ্ট করে জানালেন, স্বাস্থ্যবিমা কেনার সময় কোন কোন দিকে খেয়াল রাখলে পরে বিমা নিয়ে সমস্যা এড়ানো যাবে।
বিমা করার সময় সঠিক তথ্য দিন, নির্ভুলভাবে:
ছোটন আইচ জোর দিয়ে বলেছেন, বিমা কেনার সময় প্রথমেই জন্মের তারিখ ও নাম সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। তার পরামর্শ:
- আধার ও প্যানের সঙ্গে মিল: আপনার আধার কার্ড ও প্যান কার্ডে যে জন্মতারিখ ও নাম রয়েছে, ঠিক সেই তথ্যই বিমা করার সময় দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ভুল থাকলে ক্লেইমের সময় সমস্যা হতে পারে।
- পূর্ববর্তী অপারেশনের তথ্য: আগে কোনো অপারেশন হয়েছিল কিনা, সেই তথ্য অবশ্যই জানাতে হবে।
- বর্তমান রোগের বিবরণ: বর্তমানে কোনো রোগ রয়েছে কিনা, সেটাও স্পষ্ট করে লিখতে হবে। কোনো রকম শারীরিক সমস্যা বা রোগ এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
- নিয়মিত ওষুধের তালিকা: প্রতিদিন কী কী ওষুধ খেতে হয়, সেই তথ্যও সঠিকভাবে দিতে হবে।
- প্রোপোজ়াল ফর্ম নিশ্চিত করুন: প্রোপোজ়াল ফর্মে সব তথ্য সুনিশ্চিত হয়ে তবেই জমা দিতে হবে।
প্রোপোজ়াল ফর্ম: কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
স্বাস্থ্যবিমা কেনার সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে প্রোপোজ়াল ফর্মকে। এই ফর্মের কোথাও কোনো রকম তথ্য এড়ানো বা লুকানো যাবে না। ছোটন আইচ জানাচ্ছেন, প্রোপোজ়াল ফর্ম ফিল-আপের সময় যদি ছোট কোনো শারীরিক সমস্যা বা রোগ এড়িয়ে যাওয়া হয়, তাহলে পরে চিকিৎসার সময় সেটা সামনে চলে এলে, বিমা সংস্থা ক্লেইম দিতে অস্বীকার করতে পারে।
তার সঙ্গে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি: স্বাস্থ্যবিমার প্রোপোজ়াল ফর্ম অফিসিয়ালি গৃহীত হলে তার একটি কপি অবশ্যই নিজের কাছে রাখতে হবে। কখনও ক্লেইম আটকে গেলে বা সমস্যা হলে যদি কনজিউমার কোর্টে যেতে হয়, তাহলে সেই প্রোপোজ়াল ফর্ম দেখিয়ে আইনি লড়াই করা সহজ হবে।
সুতরাং, স্বাস্থ্যবিমা কেনার সময় প্রতিটি ধাপে সতর্ক থাকা জরুরি। সামান্য অসাবধানতা পরবর্তীতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোগান্তির কারণ হতে পারে। সঠিক তথ্য দিয়ে বিমা করলে আপৎকালীন সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন কভারেজ পেতে কোনো সমস্যা হবে না।