বাংলাতে রোবট দ্বারাই হলো কিডনি প্রতিস্থাপন, মিললো সাফল্য, সুস্থ রয়েছে রোগী

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হাসপাতালে রোবট দ্বারা কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় এই যন্ত্রমানবের নাম ‘দ্য ভিঞ্চি’। সম্প্রতি কলকাতার অ্যাপোলো মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে বিশেষ এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ৪ জনের শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে রোবট দ্য ভিঞ্চি। কলকাতার আরও চারটি বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে কিডনি প্রতিস্থাপনকারী রোবট।

কলকাতার ওই কিডনি প্রতিস্থাপন কাজের তত্ত্বাবধান করেছেন হাসপাতালের চার ইউরোলজিস্ট ডা. অমিত ঘোষ, ডা. সুরিন্দর সিং ভাটিয়া, ডা. বিনয় মহিন্দ্রা এবং ডা. ত্রিদিবেশ মণ্ডল ।

সাধারণত যার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়, তার তলপেটে প্রায় ১০ ইঞ্চি ছিদ্র করতে হতো। কিন্তু রোবটের কারনে মাত্র দেড় ইঞ্চি ছিদ্রতেই সফলভাবে কিডনির অপারেশন করা যাচ্ছে।

রোবোটিক কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট প্রক্রিয়ায় কনসোলে বসে থাকা চিকিৎসক মনিটরের মাধ্যমে পেটের ভিতরের অংশ দেখতে থাকেন। রোবোটিক আর্ম বা হাত অপারেশনে সাহায্য করে। রোবোটিক হাতের একটি বাহুতে একটি উচ্চ ম্যাগনিফিকেশন 3D ক্যামেরা রয়েছে, যা একটা কি হোলের মাধ্যমে পেটে ঢোকানো হয়। ফলে অস্ত্রোপচারের জায়গাটার একটা হাই ডেফিনেশন, ম্যাগ্নিফাইড, ত্রিমাত্রিক বা 3 ডাইমেনশন ছবি দেখা যায়।আমেরিকা থেকে আমদানি করা এসব রোবট কাজ করে প্রায় মানুষের মতোই।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে রোবটের হাতের কাজ এতই নিখুঁত যে কিডনি প্রতিস্থাপনে জটিলতা অনেক কম। রক্তক্ষরণ নামমাত্র, এমনকি রোগী সুস্থও হচ্ছেন অনেক দ্রুত।

কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের কিডনি বিশেষজ্ঞ ডক্টর অমিত ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এই রোবোটিক অস্ত্রোপচার বিপ্লব এনে দিয়েছে। রোবটের সাহায্যে দক্ষতার সাথে অস্ত্রোপচার করা হয়, যাতে রোগীর কোনো অসুবিধাই হয় না। কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে যার শরীরে কিডনি বসানো হয়, তিনি অপারেশনের কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যেতে পারবেন।

এছাড়াও অ্যাপোলো হাসপাতালের আরেক কিডনি বিশেষজ্ঞ ডক্টর ত্রিদিবেশ মণ্ডল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আশা করছি খুব দ্রুত এই রোবোটিক অপারেশন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এতদিন এই রোবোটিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আটশোর ওপর কিডনিদাতাদের অস্ত্রোপচার খুব সফলভাবে করেছি। এখন কিডনি গ্রহীতাদের অস্ত্রোপচারও খুব ভালভাবে শুরু হয়েছে।

সাধারণত কিডনি অস্ত্রোপচারে ভারতে খরচ হয় ১০ লাখ টাকা। রোবট দ্বারা প্রতিস্থাপনে খরচ হয় দুই লাখের কিছু বেশি। আগামী দিনে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা বাড়লে এই খরচ অনেকাংশে কমবে বলে আশা করছেন চিকিৎসকরা।

সূত্রে জানা যায়, দেশের একটি সংস্থাও তৈরি করছে এমন রোবট। তা বানাতে খরচ হচ্ছে ৫ কোটির মতো। ২০২২ সালের শেষেই হয়তো এমন রোবট তৈরি করে ফেলবে দেশীয় সংস্থা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *