“ওরা সন্ত্রাসবাদীদের দল”- মহেশতলায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ নিয়ে মুখ খুললেন ফিরহাদ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, হিন্দুদের বাড়ি ও দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে, পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে এবং আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বিজেপি’র বিরুদ্ধে অশান্তি তৈরির চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন।

মহেশতলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “আমাদের এই বাংলায় হিংসার কোনো জায়গা নেই। বাংলাকে গুজরাট হতে দেব না। যদি কোনো ক্রিমিনাল অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের লক্ষ্য, ক্রিমিনালদের শাস্তি দেওয়া। সেটাই হবে। দোষীদের ছাড়া হবে না। পুলিশের গায়ে হাত তুললে শাস্তি হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

ফিরহাদ হাকিম বিজেপি’কে “সন্ত্রাসবাদী দল” আখ্যা দিয়ে বলেন, “ওরা কী বলল বা বলল না তাতে কিছু আসে যায় না। ওরা ধর্মীয় উসকানি দেয়। ভেদাভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমাদের বাংলায় শান্তি রয়েছে। ধর্ম নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

এর আগে সন্ধ্যায়, মহেশতলা কাণ্ড নিয়ে সরব হয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভবানী ভবনে ডিজি’র সঙ্গে দেখা করতে যান। যদিও তিনি দাবি করেন, ডিজি তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। শুভেন্দুর অভিযোগ, মহেশতলায় হিন্দুদের বাড়িতে ও দোকানে লুটপাট, ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে এবং বহু গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি পুলিশ ও হিন্দুদের বাঁচানোর জন্য আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের দাবিও জানান। শুভেন্দু জানিয়েছেন, আগামীকাল বিধানসভায় বিজেপি এই ঘটনা নিয়ে সরব হবে এবং তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

বুধবার বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। গোষ্ঠীসংঘর্ষে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলে দাবি। উন্মত্ত জনতা ইটবৃষ্টি করায় পুলিশকর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে হয়। রবীন্দ্রনগর থানার সামনে বাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। উন্মত্ত জনতার রোষ সামাল দিতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে দেখা যায়।

মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক অশান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই মহেশতলার এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র বাদানুবাদ সৃষ্টি করেছে।