চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে গিয়ে তুকতাক? জলে ডুবে মৃত্যু দুই শিশুর, শোকে পরিবার

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা, যা কুসংস্কারের ভয়াবহ পরিণতি আবারও সামনে আনল। পুকুরে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে যায় দুই আট বছর বয়সী শিশু মেঘা সর্দার ও তিথি সর্দার। প্রায় আধঘণ্টা পর তাদের নিথর দেহ ভেসে উঠলে, স্থানীয়রা এবং পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে শুরু করেন ‘তুকতাক’, যার ফলস্বরূপ দুটি তাজা প্রাণের অকালমৃত্যু ঘটল। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো মেঘা ও তিথি স্কুলে যাওয়ার আগে পুকুরে স্নান করতে গিয়েছিল। স্নান করার সময় হঠাৎই তারা গভীর জলে তলিয়ে যায়। প্রায় আধঘণ্টা পর মেঘার নিথর দেহ ভেসে ওঠে। এরপর পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে তিথির দেহও উদ্ধার করা হয়।

এই পর্যন্ত ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা হলেও, এর পরের চিত্রটি ছিল আরও বেশি মর্মান্তিক। অভিযোগ উঠেছে যে, শিশু দুটির দেহ উদ্ধারের পর সেগুলোকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে গ্রামবাসীরা ‘তুকতাক’ শুরু করেন। গ্রামের কিছু মানুষ এবং পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে পুকুরের জলেই দেহ মাথায় নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন। এমনকি, জলে বাঁশ দিয়ে পেটানোর মতো কুসংস্কারমূলক আচরণও চলে বলে অভিযোগ। এই কুসংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড চলতে থাকে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে। এই মূল্যবান সময়টুকু যদি দ্রুত চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা যেত, তবে হয়তো বাঁচানো যেত দুই শিশুর জীবন।

অবশেষে খবর পেয়ে ক্যানিং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। এই ঘটনাটি একটি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে: এত আধুনিক যুগে এসেও কীভাবে কুসংস্কার এমন নির্মম পরিণতির কারণ হতে পারে? চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা না রেখে কেন এমন অবৈজ্ঞানিক ও বিপজ্জনক পথ বেছে নেওয়া হলো? এই প্রশ্নগুলি এখন ক্যানিংয়ের বাতাস ভারী করে তুলছে, যা সমাজকে আবারও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

Editor001
  • Editor001