২১ জঙ্গির কবর পাকিস্তানে, হাউ হাউ করে কান্না করছে জঙ্গি মাসুদ আজহার

ভারতীয় সামরিক ইতিহাসের অন্যতম গোপন এবং কার্যকর অভিযান, ‘অপারেশন সিঁদুর’, আবারও তার গভীর সাফল্যের এক নতুন, হাড়হিম করা প্রমাণ নিয়ে হাজির। পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের ২১ জন জঙ্গির কবরের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা এই অভিযানের তীব্রতা এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ভেদ করার ক্ষমতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এই কবরগুলির মধ্যে জইশ প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ঠাঁই হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্মরণ করা যেতে পারে, পহেলগাঁও-এ ২৬ জন নিরীহ নাগরিককে গুলি করে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। গত ৭ মে গভীর রাতে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ গতিতে আঘাত হানে ভারতীয় সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল বাহাওয়ালপুরের জইশ-ই-মহম্মদের সদর দফতর, যা সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।

এই হামলা যে কতটা সফল ছিল, তার জ্বলন্ত প্রমাণ এখন প্রকাশ্যে। বাহাওয়ালপুরের ওই সদর দফতরে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে কেবল সাধারণ ক্যাডারই ছিল না, ছিল জইশ প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহারের পরিবারের একাধিক সদস্যও। তাদের বাহাওয়ালপুরের একটি কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে, যার ছবিগুলি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। এই দৃশ্য ভারতের নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্য এবং নিঁখুত পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে নরেন্দ্র মোদী সরকারের নির্দেশে জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সরাসরি টার্গেট করা হয়েছিল। এটি কেবল একটি সামরিক অভিযান ছিল না, ছিল সন্ত্রাসবাদের মূল শিকড় উপড়ে ফেলার একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, জইশ-ই-মহম্মদের একজন কর্মী ফেসবুকে এই কবরগুলির ছবি শেয়ার করার পাশাপাশি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে মাসুদ আজহারের কণ্ঠও শোনা যাচ্ছে। তাঁর কণ্ঠস্বরে অপারেশনের পর জইশের চরম ক্ষয়ক্ষতির আভাস স্পষ্ট। মনে হচ্ছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ জইশ এবং তার নেতৃত্বকে এমন এক ধাক্কা দিয়েছে, যা তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। কবরস্থানের এই ছবিগুলি নিশ্চিত করে যে ভারতের সুনির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের অপরিমেয় ক্ষতি সাধন করেছে।

এই অভিযান কেবল সন্ত্রাসবাদীদেরই ধ্বংস করেনি, বরং জইশের সাংগঠনিক কাঠামো এবং তার মূল নেতৃত্বকে দুর্বল করে দিয়েছে। বাহাওয়ালপুরের এই নীরব কবরগুলি ভারতের সামরিক সক্ষমতা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার অটল প্রতিশ্রুতির এক নতুন অধ্যায় লিখল। এটি কেবল একটি যুদ্ধ জেতা নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের প্রতি ভারতের জিরো-টলারেন্স নীতির এক জ্বলন্ত প্রতীক।