প্রেমানন্দ মহারাজের আশীর্বাদেই RCB-র ট্রফি জয়? কোহলিকে ঠিক কী বলেছিলেন গুরুদেব?

সতেরো বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আইপিএল শিরোপা ঘরে তুলেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পরেই আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের আইকন বিরাট কোহলি (Virat Kohli) এবং আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দজি মহারাজ (Premananda Maharaj)। কোহলি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরপরই, আইপিএল প্লে-অফ নিশ্চিত হওয়ার মুহূর্তে, স্ত্রী অনুষ্কা শর্মাকে (Anushka Sharma) সঙ্গে নিয়ে প্রেমানন্দ মহারাজের সান্নিধ্যে গিয়েছিলেন, যা এখন আরসিবির বিজয়ের পর নতুন করে শিরোনামে উঠে এসেছে।
কোহলির চোখে আনন্দের অশ্রু, প্রেমানন্দ মহারাজের বাণী
মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানে হারিয়ে আরসিবি যখন আইপিএল ট্রফি জিতল, তখন জয় নিশ্চিত বুঝে মাঠের মধ্যেই ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই কেঁদে ফেলেন ‘কিং কোহলি’। দেশ-বিদেশ থেকে শুভেচ্ছাবার্তায় ভেসে যেতে থাকেন তিনি। এই বিজয়ের পর তারকা দম্পতি বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মার উদ্দেশ্যে প্রেমানন্দজি মহারাজের দেওয়া জ্ঞানের বাণীও ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রেমানন্দজি মহারাজ বিরাট দম্পতিকে বলেন, “আমরা আমাদের অভ্যাস বা কাজের মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দিচ্ছি। আর ওঁরা (কোহলি) নিজের খেলার মাধ্যমে গোটা ভারতকে আনন্দ দিচ্ছেন। ওঁরা জয়ী হলে সারা ভারতে আতসবাজি পোড়ানো হয়। উদযাপনে মেতে ওঠে গোটা দেশ। এটা কি তাঁদের অভ্যাস নয়?” মনে করা হচ্ছে, প্রেমানন্দ মহারাজের এই বাণী সবসময় বিরাট কোহলিকে অনুপ্রাণিত করেছে, এবং এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
“পরিশ্রম ও বিনয়ী থাকতে হবে,” জয়ের পর বিরাটের উপলব্ধি
এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে, যখন ম্যাচ শেষে স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিরাট বলেন, “আমার সারাজীবন মনে হয়েছে, পরিশ্রম করতে হবে। বিনয়ী থাকতে হবে। তবেই সাফল্য মিলবে। সেটাই হয়েছে।” কোহলির এই মন্তব্য যেন প্রেমানন্দ মহারাজের বাণীরই প্রতিধ্বনি।
ফাইনাল ম্যাচের বিস্তারিত: আরসিবির দাপট ও পাঞ্জাবের লড়াই
ফাইনাল ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাঞ্জাব কিংস। ব্যাট করতে নেমে ফিল সল্ট (Phil Salt) খুব বেশি রান করতে না পারলেও বিরাটের সঙ্গে জুটি গড়ে দলের রানের গতি বাড়াতে থাকেন। সল্টের উইকেট হারালেও মায়াঙ্ক আগারওয়াল (Mayank Agarwal), রজত পাতিদার (Rajat Patidar), লিয়াম লিভিংস্টোন (Liam Livingstone) ও জিতেশ শর্মারা (Jitesh Sharma) চালিয়ে খেলতে থাকেন। অন্যদিকে, স্ট্রাইক রোটেট করার কাজটা সুচারুভাবে করতে থাকেন বিরাট। ৩৫ বল খেলে ৪৩ রান করে আউট হন বিরাট। শেষ পর্যন্ত পাঞ্জাবের সামনে ২৯১ রানের বিশাল টার্গেট দেয় আরসিবি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করলেও, যশ দয়াল (Yash Dayal), ক্রুণাল পান্ডিয়াদের (Krunal Pandya) দাপটে পরপর উইকেট হারাতে থাকে পাঞ্জাব। শশাঙ্ক সিংয়ের (Shashank Singh) ৩০ বলে ৬১ রানের দারুণ ইনিংসের পরেও হার আটকাতে পারেনি পাঞ্জাব। ৬ রানে হেরে তাদের আইপিএল জেতার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়।
এই ঐতিহাসিক জয় আরসিবির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে এবং বিরাট কোহলির ক্রিকেট জীবনে এক নতুন পালক যোগ করেছে। আধ্যাত্মিকতার স্পর্শে তাঁর এই সাফল্য আরও গভীর অর্থ বহন করছে বলে মনে করছেন ভক্তরা।