বাংলাদেশি সন্দেহে ‘খেদিয়ে’ দিল BSF, ওদিকে BGB গান তাক করে রুখল পথ, পরে রইলেন প্রৌঢ়া

গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এক প্রৌঢ়াকে জোর করে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের দিকে খেদিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ ও বিএসএফের বিরুদ্ধে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই সময় ওই প্রৌঢ়াকে নিজের নাগরিকত্বের সপক্ষে কোনো নথি পেশ করার বা কিছু বলার সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর চরম দুর্দশার শিকার হন তিনি, কারণ ভারতের সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়া হলেও, সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BGB) বন্দুক তাক করে তাকে ঢুকতে দেয়নি। ফলে, ভারত ও বাংলাদেশের মাঝের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ দীর্ঘক্ষণ আটকা পড়ে চরম দুর্দশার শিকার হন এই হতভাগ্য প্রৌঢ়া।
অভিযোগ: নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়াই ‘খেদিয়ে দেওয়া’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে আচমকা পুলিশ এবং বিএসএফের একটি দল এসে এক প্রৌঢ়াকে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কোনো রকম জিজ্ঞাসাবাদ বা তার নাগরিকত্বের সপক্ষে নথি দেখতে চাওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাকে সরাসরি সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর জোর করে তাকে কাঁটাতারের ওপারে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
নো ম্যানস ল্যান্ডে চরম দুর্দশা
বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BGB) ওই প্রৌঢ়াকে তাদের দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। বন্দুক তাক করে তাকে আটকে দেওয়া হয়, ফলে তিনি আর এগোতে পারেননি। এমতাবস্থায়, ভারত ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের মাঝখানে থাকা ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ তিনি দীর্ঘক্ষণ আটকা পড়ে থাকেন। এই উন্মুক্ত ও অরক্ষিত স্থানে রাতের অন্ধকারে একজন প্রৌঢ়ার এমন অসহায় অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার ঘটনাটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অমানবিক আচরণের এক চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কেন এই পদক্ষেপ?
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই প্রৌঢ়াকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার নাগরিকত্ব যাচাই না করে এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে এমন চরম পদক্ষেপ কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সীমান্ত সুরক্ষার নামে নিরীহ মানুষকে এমন চরম ভোগান্তিতে ফেলার ঘটনা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে তদন্তের দাবি উঠেছে। এমন অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।