ঘরে সোনার পাহাড়, কোটি টাকার স্তূপ! ঘুষের জালে IRS কর্তা, গ্রেফতার অফিসার

দীর্ঘদিন ধরেই কান পাতলে শোনা যাচ্ছিল ফিসফাস—ঘুষের কারবার চলছে অবাধে। অভিযোগের তীর ছিল খোদ ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিসের এক আধিকারিকের দিকে। কিন্তু ‘রাঘব বোয়াল’ ধরতে নাভিশ্বাস উঠছিল পুলিশের। অবশেষে, রবিবার সেই পর্দা উঠল। ২৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন সেই প্রভাবশালী অফিসার, অমিতকুমার সিংহল।
তবে এই গ্রেফতারির পর তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) আধিকারিকদের। এ যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়! অভিযুক্ত অমিতকুমারের একাধিক বাড়িতে হানা দিয়ে উদ্ধার হয়েছে রাশি রাশি নগদ টাকা, থরে থরে সোনা-রুপোর গয়না, আর চকচকে সোনার বিস্কুট। সিবিআই সূত্রে খবর, সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা নগদ, সাড়ে তিন কেজি সোনা এবং দু’কেজি রুপো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। হতবাক অফিসারদের মন্তব্য, “এ যেন সাক্ষাৎ গুপ্তধন!” দিল্লি, মুম্বই এবং পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে।
উল্লেখ্য, ধৃত অমিতকুমার সিংহল ২০০৭ সালের আইআরএস ব্যাচের আধিকারিক। তিনি ‘ডিরেক্টরেট অফ ট্যাক্সপেয়ার সার্ভিসেস’-এর অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। অভিযোগ, আয়কর সংক্রান্ত একটি সমস্যার সমাধানের বিনিময়ে এক দোকান মালিকের কাছে তিনি হাঁকেন ৪৫ লক্ষ টাকা ঘুষ!
অসহায় দোকান মালিক শেষ পর্যন্ত দ্বারস্থ হন সিবিআইয়ের। এরপরেই অভিযুক্ত আমলাকে ধরার জন্য পাতা হয় ফাঁদ। সূত্রের খবর, ঘুষের টাকা না দিলে আইনি জটিলতায় ফাঁসানো এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা চাপানোর মতো ভয়ংকর হুমকিও দিয়েছিলেন এই রাজস্ব কর্তা।
যারা দেশের অর্থনীতির রক্ষক হওয়ার কথা, তাদের এই ধরনের দুর্নীতি যেন বিশ্বাস করা কঠিন। কোটি কোটি টাকার এই ‘গুপ্তধন’ উদ্ধারের ঘটনা শুধু যে অভিযুক্তের মুখোশ খুলে দিল তাই নয়, সরকারি দফতরের অন্দরের কালো দিকটাও আরও একবার প্রকট করল। এখন দেখার, এই ‘গুপ্তধন’-এর উৎস এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেই রহস্যের কিনারা করতে তদন্তকারীরা কতদূর এগোতে পারেন।