প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি! ইতালির এটনায় আগুনের উদ্দাম নৃত্য, আকাশ ছুঁল ধোঁয়ার কুণ্ডলী

প্রথমে পরপর কয়েকটি বিকট শব্দ, তারপর যেন ফুঁসে ওঠা আগুনের ফোয়ারা! ইতালির সুবিখ্যাত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এটনা সোমবার যেন তার ভেতরের তেজ প্রকাশ করল এক নাটকীয় অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে। মুহূর্তের মধ্যে আকাশ ঢেকে গেল কালো ধোঁয়ার ঘন কুন্ডলীতে, আর আগ্নেয়গিরির গা বেয়ে নেমে এল গনগনে লাভার স্রোত। প্রকৃতির এই অভাবনীয় শক্তি প্রত্যক্ষ করলেন বহু মানুষ, যেন এক জীবন্ত আগ্নেয়লীলার সাক্ষী তাঁরা।

ইতালির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণকারী সরকারি সংস্থা এই অগ্ন্যুৎপাতের খবর নিশ্চিত করেছে। তাদের প্রাথমিক ধারণা, অগ্ন্যুৎপাত আপাতত সিসিলি দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং তেমন বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি যে নজরদারিতে রাখা হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, প্রধান জ্বালামুখ থেকে বেরোনো উত্তপ্ত গ্যাস, ছাই এবং পাথর মিশে ভয়ংকর লাভার স্রোত ক্রমশ নিচের দিকে ধেয়ে আসছে।

তবে স্বস্তির খবর, এই অগ্ন্যুৎপাতে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষতির খবর মেলেনি। মাউন্ট এটনা এমনিতেই একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে পরিচিত, তাই সিসিলির বাসিন্দাদের কাছে এমন অগ্ন্যুৎপাত নতুন কিছু নয়। তাঁরা সাধারণত এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতই থাকেন। তাই এই মুহূর্তে কোনো উদ্ধারকার্যের প্রয়োজনও পড়েনি।

প্রায়শই গর্জে ওঠে এই মাউন্ট এটনা। তেমন বড় ক্ষতি না করলেও, এর ধোঁয়ার কুণ্ডলী এতটাই উঁচুতে পৌঁছয় যে মাঝে মাঝে বিমান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে। তবে সোমবারের অগ্ন্যুৎপাতের পর নিকটবর্তী ক্যাটানিয়া বিমানবন্দরের পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থ যদি হাওয়ার দাপটে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে, সেই নিয়ে একটা চাপা উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। তাই পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এই মাউন্ট এটনা, যাকে স্ট্র্যাটোভোলকানোও বলা হয়। অর্থাৎ, শঙ্কু আকৃতির আগ্নেয়গিরি, যা সহস্র বছর ধরে জমা হওয়া লাভা উদগীরণের ফলে তৈরি হয়েছে। মাউন্ট এটনা প্রায় সারাক্ষণই সক্রিয় থাকে, তবে সাধারণত অল্প ধোঁয়া আর ছাই বের হয়। সারা বছর এত তীব্রতায় অগ্ন্যুৎপাত খুব একটা দেখা যায় না।

মাউন্ট এটনা একইসঙ্গে ইতালির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রও বটে। বর্তমানে সিসমিক সেন্সর, স্যাটেলাইটের ছবি এবং ড্রোনের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। প্রকৃতির এই রুদ্র রূপ কখন শান্ত হয়, এখন সেটাই দেখার।