পরমাণু বিকিরণের প্রতিষেধক এবার ভারতেই তৈরি, DRDO-র যুগান্তকারী সাফল্য

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ এবং পারমাণবিক হামলার হুমকির আবহে ভারত এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিকিরণ থেকে রক্ষা করার জন্য একটি দেশীয় প্রতিষেধক তৈরি করেছে। DRDO-র দিল্লি-ভিত্তিক পরীক্ষাগার, ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস, এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করেছে।
DRDO-র সাফল্য:
এখন পর্যন্ত পারমাণবিক বিকিরণ এড়াতে যে ওষুধ ব্যবহার করা হত, তা বিদেশ থেকে আমদানি করা হত। কিন্তু DRDO-র এই নতুন আবিষ্কার ভারতকে এই ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর করে তুলবে। এই দেশীয় প্রতিষেধকটি ইতিমধ্যেই ড্রাগ রেগুলেটর দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে।
কেন এই প্রতিষেধক গুরুত্বপূর্ণ?
এই প্রতিষেধকটি যেকোনো পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যাবে। যেমন, কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিকিরণ লিক হলে এই ওষুধ মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে। এছাড়াও, যুদ্ধের সময় প্রতিরক্ষা কর্মীদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী হবে, কারণ পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার সবসময়ই একটি বড় হুমকি।
পারমাণবিক বর্জ্য থেকে হুমকি:
পারমাণবিক বর্জ্যও আমাদের জীবনের জন্য বড় হুমকি হতে পারে। পারমাণবিক বর্জ্যে সিজিয়াম (Cesium) নামক একটি তেজস্ক্রিয় উপাদান পাওয়া যায়, যা পারমাণবিক চুল্লি দ্বারা উৎপাদিত বর্জ্য থেকে নিষ্কাশিত হয়। এছাড়াও, হাসপাতালগুলিতে ইমেজিং প্রযুক্তিতে থ্যালিয়াম (Thallium) ব্যবহৃত হয়। এই সমস্ত তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব কমাতে DRDO কর্তৃক তৈরি এই প্রতিষেধকটি প্রু-ডেকর্প (Pru-Decorp) নামে বাজারে পাওয়া যাবে।
জাপানে শেষ পারমাণবিক হামলায় লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং বিকিরণের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের কথা মাথায় রেখে ভারতের এই দেশীয় প্রতিষেধক তৈরি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি কেবল দেশের সুরক্ষাই নয়, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।