বর্ষার জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এলাকা, প্রাণহানি রোধ করে এলাকায় মুড়ে দেওয়া হচ্ছে পিভিসি-র চাদর

এলগিন রোড ও হরিদেবপুরের মতো ঘটনা আর নয়! বর্ষার জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একের পর এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শহরের বিভিন্ন ‘ওয়াটার পকেট’ (জল জমার প্রবণতাযুক্ত এলাকা) হিসেবে চিহ্নিত এলাকার বাতিস্তম্ভগুলিকে পিভিসি-র চাদরে মুড়ে ফেলার কাজ শুরু করেছে কলকাতা কর্পোরেশন। এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে বর্ষায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানি রোধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কলকাতা কর্পোরেশন আলোক বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপ রঞ্জন বকসি জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় এই কাজ সম্পন্ন হবে।

আগাম প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয়তা:
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বঙ্গে সময়ের আগেই বর্ষা প্রবেশ করেছে। যদিও দক্ষিণবঙ্গে এখনও পুরোদমে বর্ষা শুরু হয়নি, তবে বর্ষায় জমা জলের বিপদ আঁচ করেই কলকাতা কর্পোরেশনের আলোক বিভাগ আগাম শহরের বাতিস্তম্ভগুলি মেরামত করা এবং তড়িৎ পরিবাহী নয় এমন পিভিসি চাদরে মুড়ে ফেলার কাজ শুরু করেছে।

কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কলকাতায় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক আলোক স্তম্ভ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে কম-বেশি ৭০ হাজার ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ। ঝড়-জল কিংবা প্রখর তাপে অনেক আলোক স্তম্ভে আর্থিং তার বা কোনো বিদ্যুতের তার নষ্ট হয়ে যায়। আবার কোথাও দুটি তারের সংযোগ খোলা থাকে। এদিকে ত্রিফলা আলোক স্তম্ভগুলির অবস্থা বেশ খারাপ। অধিকাংশের নীচে সুইচ বক্সের ঢাকনা চুরি হয়ে গেছে। ফলে সব মিলিয়ে বর্ষার দিনে শহরের বড় রাস্তা থেকে অলিগলি পর্যন্ত এই আলোক স্তম্ভগুলি যে যথেষ্ট চিন্তার কারণ, তা পুর কর্তৃপক্ষের অজানা নয়।

সুরক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ:
এই আলোক স্তম্ভগুলি যাতে মৃত্যু ফাঁদ না হয় এবং যাতে এই বর্ষায় শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আর প্রাণ হারাতে না হয়, সেদিকেই নজর দিচ্ছে আলোক বিভাগ। আলোক বিভাগের তরফে কলকাতার বিভিন্ন ‘ওয়াটার পকেট’ হিসেবে চিহ্নিত রাস্তায় থাকা আলোক স্তম্ভগুলি নীচ থেকে ৭ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত পিভিসি-র চাদরে মুড়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, কোথাও কোনো তার খোলা থাকলে সেটা সঠিকভাবে টেপ লাগানো এবং আর্থিং তার ঠিক করার কাজ চলছে। এই প্রাথমিক কাজের জন্য কয়েক লক্ষ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।

এছাড়াও সিদ্ধান্ত হয়েছে, পুরো বর্ষাকালে শহরের সমস্ত ত্রিফলা আলো বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে আলোক বিভাগের মেয়র পারিষদ সদস্য সন্দীপ রঞ্জন বকসি বলেন, “পিভিসি-র চাদরে মুড়ে ফেলার কাজ গত মাসের শেষের দিক থেকে শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে শহরের বিভিন্ন এলাকায় হবে। বড়বাজার এলাকায় ইতিমধ্যেই এই কাজ হয়ে গিয়েছে। অতীতে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, সেটা যাতে শহরের বুকে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তাই সতর্ক থেকে এই কাজ করা হচ্ছে। এর সঙ্গেই বিপদ সংকেত জানিয়ে সচেতন করে বাতিস্তম্ভগুলিতে পোস্টার লাগানো হচ্ছে।”

এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে কলকাতার বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে এবং বর্ষায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।