পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা কেবল পাক-অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধার নিয়েই, মালয়েশিয়ায় বার্তা অভিষেকের

পাকিস্তানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনা শুধুমাত্র পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (POK) পুনরুদ্ধারের বিষয় নিয়েই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সর্বদলীয় সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মালয়েশিয়ায় ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিভিন্ন কার্যকলাপ এবং সরকারে পরিবর্তন সত্ত্বেও আমরা কয়েক দশক ধরে তাদের (পাকিস্তানের) সঙ্গে আলোচনা করে আসছি। কিন্তু একটি বিষয় অপরিবর্তিত রয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত।” জেডি(ইউ) রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় কুমার ঝা-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে তিনি এদিন মালয়েশিয়ায় আরও বলেন, “২২ এপ্রিল সেখানে ধর্ম এবং লিঙ্গের ভিত্তিতে ২৬ জনকে একেবারে ফাঁকা জায়গায় হত্যা করা হয়েছিল। আমি চাই কেন্দ্রের শাসকদল পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসুক। সেখানে শুধুমাত্র পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর পুনরুদ্ধার নিয়ে আলোচনা হোক। অন্যথায়, এই সন্ত্রাসী হামলা চলতেই থাকবে।”
ভারতের সুদৃঢ় অবস্থান:
ভারত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা কেবল সন্ত্রাসবাদ এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই হবে। প্রবাসীদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় ঝা-এর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের এই নীতিগত এবং দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের কয়েক দশক ধরে ভারতকে প্রভাবিত করে এমন আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে, বিশেষ করে পহেলগাঁওয়ে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষাপট ও পটভূমি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় নীতি সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের কাছে বিচারের জন্য এবং অপরাধীদের যাতে শাস্তি দেওয়া হয়, তার জন্য দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করেছিল ভারত। কিন্তু কিছুই হয়নি। তার ১৪ দিন পর ভারত পাকিস্তানে হামলা চালিয়ে ৯টি সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেয়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এখানে সকল প্রমাণ নিয়ে এসেছি। ছবিগুলি সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের শেষকৃত্যে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। ভারত বিশ্বকে এর চেয়ে বেশি প্রমাণ আর কী দিতে পারে?”
কাশ্মীর ভ্রমণের আহ্বান:
এদিন তিনি প্রবাসীদের ভারত সফরের সময় ৩-৪ দিন কাশ্মীরে কাটানোর জন্য অনুরোধ করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই আক্রমণের মাধ্যমে তারা আমাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিল। তাই এখন আমাদের দায়িত্ব হল বিপরীত কাজ করা এবং কাশ্মীরের উন্নতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। আমার বিনীত আবেদন, পরের বার যখন আপনারা ভারত সফর করবেন, তখন স্থানীয় জনগণকে সমর্থন করার জন্য এবং পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য কাশ্মীরে ৩-৪ দিন ঘুরে আসবেন।”
তাঁর কথায়, “যাঁরা ভারত থেকে অনেক দূরে আছেন তাঁরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে জাতীয়তাবাদী বৈশিষ্ট্য এবং দেশপ্রেমের প্রতিনিধিত্ব করেন।” তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ আরও বলেন, “যুদ্ধ, হিংসা এবং সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে আমরাই শেষ কথা বলব। কারণ পাকিস্তানের অভ্যাস আছে সন্ত্রাসী হামলার পর একদিকে কূটনীতি করা এবং অন্যদিকে জঙ্গি সংগঠনগুলির শাখাকে ভারতীয় মাটি ও ভারতীয়দের উপর সন্ত্রাস চালিয়ে যাওয়ার জন্য মদত দেওয়া। এটি আর ঘটবে না।”