অনুব্রত মণ্ডলের সমর্থনে বিস্ফোরক মন্তব্য, ক্ষমা চাইলেন তৃণমূল ছাত্রনেতা

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বীরভূম জেলা সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউ বোলপুরের আইসি লিটন হালদারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সরাসরি লাইভে এসে তিনি আইসি-কে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং ‘বালি-পাথর মাফিয়াদের সঙ্গে যোগসাজশকারী’ বলে অভিযোগ করেন। এর পাশাপাশি, বিক্রমজিৎ সাউ আইসি লিটন হালদারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, “অনুব্রত মণ্ডলের তুমি কিছু করতে পারবে না।” যদিও পরে সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
বিক্রমজিৎ সাউ লাইভে বলেন, “এই আইসি দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি বালি, পাথর মাফিয়াদের সঙ্গে যোগসূত্র রেখে চলেন। তার কুকর্মের জন্য বোলপুরের গরিব মানুষদের ভুগতে হয়। এই লিটন হালদার অনুব্রত মণ্ডল নামক ব্র্যান্ডকে দমানোর চেষ্টা করছেন। লিটন হালদার একটা কাপুরুষ।”
তিনি আইসি-কে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, “তুমি বাপের বেটা হলে, দম থাকলে সত্য কথাটা বলো বালি মাফিয়া, বোলপুরের মানুষকে নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলেছ সেটা বলো। শান্তিনিকেতনে কবিগুরুর পদধূলি পড়েছিল। সেই মাটিকে তুমি কলঙ্কিত করেছ। তুমি তোমার অপকর্মের মাধ্যমে অনুব্রত মণ্ডল নামে শক্তিকে দমানোর চেষ্টা করেছ। তোমার অপকর্মের মাধ্যমে অনুব্রত মণ্ডলের শক্তি কমবে না। তুমি এডিটিং করে তার ভয়েস তুলে আনার চেষ্টা করেছ। তুমি সত্যিই কী তোমার বউকে অনুব্রত মণ্ডলের কাছে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলে? তোমার চরিত্র এতটাই খারাপ।”
বিক্রমজিৎ সাউ আরও অভিযোগ করেন, “এর আগে অনেক পুলিশ অফিসার এসেছেন, গিয়েছেন, তারা কেউ তোমার মতো বালি, পাথর থেকে পয়সা তোলেনি। তুমি দুর্নীতিগ্রস্ত। দম থাকলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করো। তোমার দুর্নীতির সমস্ত তথ্য আমাদের কাছে আছে। তুমি ডালে ডালে চললে আমরা শিরায় শিরায় চলি। তুমি যে অন্যায় করেছ তার শাস্তি তোমাকে বীরভূমেই পেতে হবে। অনুব্রত নামক শক্তিকে দমানো যায় না, যাবে না।”
তিনি আইসি-কে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “এই ফোন কলটা যে অনুব্রত মণ্ডলের সেটা প্রমাণ করতে পারবে? তোমার দম আছে? আবার বলছি তুমি দুর্নীতি পরায়ণ, চোর, জোচ্চোর, বালি মাফিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখো লিটন হালদার। তুমি পারলে আমার নামে কেস করো। তুমি যদি ভাব ঈশ্বরের থেকে উঁচু জায়গায় আছো তাহলে মূর্খের স্বর্গে বাস করছ। ছিলে তো সিআইডির গ্যারেজ পোস্টিং। দল ও সরকার তোমাকে দয়া করে এই জায়গায় এনেছে। তোমার উচিত ছিল সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলা। তুমি সেটা করোনি। তুমি মূর্খ।”
রবিবার বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিক্রমজিৎ সাউ তাঁর পূর্ববর্তী মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি আবেগ বশত বলে ফেলেছি। আমি ক্ষমা চাইছি।” এই ঘটনা নিয়ে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।