রাতে জল খেতে উঠে ঝিমিয়ে পড়ল ছোট্ট সোনা! সাপের ছোবলে মেয়ের মৃত্যু, তবু তান্ত্রিকের পায়ে হত্যাকারী পরিবার

মধ্যপ্রদেশের সাগরের রাহলিতে এক মর্মান্তিক ঘটনা যেন মধ্যযুগকে ফিরিয়ে আনল। কুসংস্কারের অন্ধকারে ডুবে থাকা একটি পরিবারের চরম খামখেয়ালিপনার শিকার হল ১১ বছরের ছোট্ট একটি মেয়ে। গভীর রাতে জল তেষ্টা পেলে ঘুমচোখে কলসির দিকে এগিয়ে গিয়েছিল বৈশালী আহিরওয়ার। আর সেই অন্ধকারেই লুকিয়ে ছিল সাক্ষাৎ যম—এক বিষাক্ত সাপ।
সাপের ছোবলে আর্তনাদ করে ওঠে বৈশালী, ভেঙে যায় বাড়ির সকলের ঘুম। আলো জ্বেলে দেখা যায় ভয়াবহ দৃশ্য—মেয়েকে সাপে কামড়েছে। কিন্তু বিজ্ঞান ছেড়ে কুসংস্কারের পথে হাঁটল পরিবার। দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে এক তান্ত্রিকের ডেরায় ছুটে যান তাঁরা।
ঝাড়ফুঁকের নামে তান্ত্রিকের ভণ্ডামি যখন ব্যর্থ হল, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেল, তখন সে মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলল। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই নিথর হয়ে যায় বৈশালীর ছোট্ট শরীর।
তবে এখানেই শেষ নয় কুসংস্কারের অন্ধকার। মৃত মেয়ের দেহ নিয়ে ফের শুরু হল পরিবারের আর এক অমানবিক যাত্রা। রাহলির কমিউনিটি হেলথ সেন্টার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে, অন্য এক তান্ত্রিকের কাছে ছুটে যান তাঁরা—যেন মৃত মেয়েকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব! বাঁচার জন্য কাকুতিমিনতি করতে থাকেন তাঁরা।
অবশেষে এই ঘটনার খবর পৌঁছয় পুলিশের কানে। শনিবার রাতে মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার রাহলি থানার হিনৌতি গ্রামের এই ঘটনা স্তম্ভিত করে দেয় সকলকে। পুলিশ এসে বৈশালীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
শনিবার রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর যখন সকলে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন রাত একটার দিকে জল পান করতে ওঠে বৈশালী। সেখানেই ঘটে এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। সাপের বিষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তার শরীরে, নিস্তেজ হয়ে পড়ে ছোট্ট প্রাণটি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে না গিয়ে ছুটলেন অচেনা, অলৌকিক শক্তির সন্ধানে। অচলপুর গ্রামের সেই তান্ত্রিক শুধু আশ্বাসই দিল, কিন্তু কেড়ে নিল মূল্যবান সময়। ভোর চারটে নাগাদ যখন বৈশালীকে হাসপাতালে আনা হল, তখন সে প্রায় মৃত। চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি।
মৃত্যুর পরেও পরিবারের বিশ্বাস টলেনি। মৃত মেয়ের দেহ নিয়ে তারা ছুটে গিয়েছিল বাদিপুরার অন্য এক তান্ত্রিকের কাছে। গ্রামবাসীদের সাহায্য চেয়ে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে। কুসংস্কারের এই অন্ধ বিশ্বাস কেড়ে নিল একটি নিষ্পাপ জীবন। প্রশ্ন উঠছে, কবে এই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বাঁধা কুসংস্কারের বিষ দূর হবে?