OMG! হাতে এঁকেই রণতরীর ছবি পাঠাতেন পাকিস্তানে, গ্রেপ্তার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার

ইউটিউবার, স্বাস্থ্যকর্মী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সিআরপিএফ জওয়ান—’অপারেশন সিঁদুর’ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক পাকিস্তানি গুপ্তচরের খোঁজ মিলছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন মহারাষ্ট্রের ঠানের এক ২৭ বছর বয়সী মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। অভিযোগ, ফোনে ছবি তোলার অনুমতি না থাকায় তিনি হাতে এঁকে ভারতীয় রণতরী এবং সাবমেরিন সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানে পাচার করতেন। এই ঘটনা দেশজুড়ে গোয়েন্দা জালে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের ব্যাপক উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ধৃত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের নাম রবীন্দ্র ভার্মা, বাড়ি ঠানের কালওয়ায়। গত বুধবার তাকে মহারাষ্ট্র পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী শাখা (ATS) গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, রবীন্দ্র ভার্মা পাকিস্তানের ‘হানিট্র্যাপ’-এর শিকার হয়েছিলেন। ফেসবুকে নিজেকে মহিলা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এক পাকিস্তানি এজেন্ট তাকে গোপন তথ্য পাচার করার জন্য প্রলুব্ধ করেছিল।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে মহারাষ্ট্র পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে রবীন্দ্র ভার্মা ‘জেনেশুনে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিকবার’ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানে পাচার করেছিলেন। তার ভারত এবং বিদেশের বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে তথ্যের বিনিময়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা (PIO) অর্থ পাঠাত।
রবীন্দ্র ভার্মা একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সুবাদে দক্ষিণ মুম্বইয়ের নৌ ডকইয়ার্ডে তার অবাধ প্রবেশাধিকার ছিল। নৌবাহিনীর জাহাজ এবং সাবমেরিনেও তার যেতে কোনো বাধা ছিল না।
পুলিশ জানিয়েছে, নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে কাজ করার সময় মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া নিষেধ ছিল। তাই রবীন্দ্র ভার্মা সরাসরি কোনো ছবি তুলতে পারেননি। এর বদলে কাজ শেষ হওয়ার পর, তিনি সংশ্লিষ্ট রণতরী বা সাবমেরিনগুলির স্কেচ বা ডায়াগ্রাম আঁকতেন। এরপর সেই হাতে আঁকা ছবিই PIO-কে পাঠাতেন। কখনও কখনও তিনি অডিও নোটের মাধ্যমেও তথ্য পাচার করতেন। সন্ত্রাসবিরোধী শাখার সন্দেহ, পাকিস্তানি এজেন্টদের কাছে তিনি সাবমেরিন এবং যুদ্ধজাহাজের নামও পাঠিয়েছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে এক পাকিস্তানি এজেন্টের সঙ্গে রবীন্দ্র ভার্মার যোগাযোগ ছিল। এর কয়েকদিন আগে ‘পায়েল শর্মা’ এবং ‘ইসপ্রীত’ নামে দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তার কাছে বন্ধুত্বের অনুরোধ আসে, যা সে গ্রহণ করে।
প্রাথমিকভাবে, এই দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারীরা নিজেদের মহিলা এবং ভারতীয় বলে পরিচয় দিয়েছিল। তারা রবীন্দ্রকে জানায় যে, তারা এমন একটি প্রকল্পে কাজ করছে যার জন্য যুদ্ধজাহাজ সম্পর্কিত তথ্যের প্রয়োজন। এভাবে ফেসবুকে কয়েক দফা কথোপকথন চলার পর, ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্যের জন্য রবীন্দ্রকে চাপ দেওয়া শুরু হয়।
‘হানিট্র্যাপে ফেঁসে যাননি’, সচেতন ছিলেন রবীন্দ্র
পুলিশের দাবি, রবীন্দ্র ভার্মা পুরোপুরি ‘ফেঁসে গিয়েছিলেন’ এমনটা বলা যায় না। কারণ, তিনি কী করছেন এবং কাদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাঠাচ্ছেন, সে সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা ছিল। এই সকল তথ্য সরবরাহের বিনিময়ে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ পাচ্ছিলেন। অর্থাৎ, অর্থের লোভে জেনেশুনেই তিনি দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সক্রিয়তার আরও একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরল। রবীন্দ্র ভার্মার গ্রেফতার এই গুপ্তচর চক্রের গভীরে পৌঁছাতে গোয়েন্দাদের আরও সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।