ফের বাড়ছে সংক্রমণ! পুরনো টিকা কতটা কার্যকরী? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে করোনাভাইরাস! দেশে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, ইতিমধ্যেই ২০০০ ছাড়িয়েছে মোট অ্যাক্টিভ কেস। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের শনিবারের তথ্য বলছে, দেশে মোট ২৭১০ জন কোভিড আক্রান্ত, যদিও সুস্থ হয়েছেন ১১৭০ জন এবং প্রাণহানি ঘটেছে ৭ জনের।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের চিত্রটাও উদ্বেগজনক। দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বাড়ছে আক্রান্তের হদিশ।

তবে, বাজারে এখন অমিল করোনাভাইরাসের টিকা। চাহিদা থাকলেও সরবরাহ বেশ কম। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। তাঁদের মতে, সংক্রমণ রুখতে এখন যে টিকাগুলি বাজারে রয়েছে, সেগুলি এই নতুন ধরনের ভাইরাসের মোকাবিলায় তেমন পারদর্শী নয়। কারণ? পুরনো টিকা তৈরি হয়েছিল ২০২১ সালের পুরনো কোভিড-১৯ ভ্যারিয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু ভাইরাসের চরিত্র এখন অনেকটাই বদলেছে।

তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আইসিএমআর-এর উপদেষ্টা সমীরণ পণ্ডা জানিয়েছেন, নতুন পরিমার্জিত ভ্যাকসিন তৈরির জন্য দেশের পরিকাঠামো যথেষ্ট মজবুত। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কোভ্যাক্সিন বা কোভিশিল্ডই শুধু নয়, বিদেশি প্রযুক্তির এম-আরএনএ ভ্যাকসিনও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রয়োজনে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এক কোটি টিকা তৈরি করার ক্ষমতা রাখে ভারত।

তা হলে এখন মজুত টিকা? বিশেষজ্ঞদের সাফ কথা, তিন বছর আগে তৈরি হওয়া ওই টিকাগুলি এখন ব্যবহার করে তেমন লাভ নেই। শেষ টিকা তৈরি হয়েছিল ওমিক্রনের জন্য, কিন্তু তারপর ভাইরাসের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ভাইরোলজিস্ট সৌরীশ ঘোষের মতে, ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের পরিবর্তন হওয়ায় পুরনো টিকাগুলি কার্যত অকেজো।

সুতরাং, সংক্রমণ বাড়ছে ঠিকই, তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ভরসা জোগাচ্ছেন। গণটিকার এখনই প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন মতো দ্রুত নতুন টিকা তৈরির সক্ষমতা দেশের রয়েছে। তাই ভয় নয়, প্রয়োজন সচেতনতার।