প্রবল বর্ষণে পাহাড়ে ধস! সিকিমে ঘুরতে গিয়ে যা হলো পর্যটকদের সঙ্গে?

উত্তর সিকিমের মুন্সিথাং অঞ্চলের কাছে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই দুর্ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও আটজন। শুক্রবার রাতের এই দুর্ঘটনায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় গ্যাংটকের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং এনডিআরএফ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটার পর শুক্রবার সকাল থেকেই উদ্ধার কাজ শুরু হয়। তবে, বিকেলের দিকে ফের প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটে। টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
মুন্সিথাংয়ের দুর্ঘটনাস্থলে নিখোঁজদের সন্ধানে একাধিক বাহিনী ও সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। এদের মধ্যে ছিল BRO (86 RCC), NDRF, সিকিম পুলিশ, দমকল বিভাগ, ITBP, IHCAE Chemchey-এর পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞ দল, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল দফতর, চালক সমিতি এবং TAAS-এর স্বেচ্ছাসেবকরা। পর্বতারোহী কাজী শেরপা এই উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
নদীতে গাড়ির খোঁজ এবং নিখোঁজদের সন্ধান পেতে এখনও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলা কালেক্টর, পুলিশ সুপার, চুংথাং-এর SDM ও SDPO, DPO, 86 RCC GREF(BRO)-র CO এবং SHO সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে পুরো এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হবে।
এদিকে, শুক্রবার বিকেল থেকে উত্তর সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এর ফলে তিস্তা নদীর জলস্তর বেড়ে থিয়েং ও চুংথাং এলাকায় বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। একাধিক ধসের কারণে বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বহু সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে যে চুংথাং সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে চুংথাং থেকে মুন্সিথাং-এর মাঝে একটি পর্যটকবাহী গাড়ি প্রায় ১০০০ ফুট নিচে তিস্তা নদীতে পড়ে যায়। গাড়িটিতে মোট ১১ জন যাত্রী ছিলেন – দশজন পর্যটক এবং একজন চালক। তারা সকলেই কলকাতা ও ওড়িশা থেকে উত্তর সিকিমের বিভিন্ন পর্যটনস্থল ঘুরে গ্যাংটকের দিকে ফিরছিলেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে আনুমানিক রাত ৯টা নাগাদ।
ঘটনার পরপরই ITBP, সিকিম পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এখনও পর্যন্ত দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এদের মধ্যে একজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্যজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি নয়জন এখনও নিখোঁজ। পাহাড়ি পথ, অন্ধকার এবং নদীর প্রবল স্রোতের জন্য উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের আশঙ্কা, গাড়িটি সম্ভবত নদীর স্রোতে সম্পূর্ণভাবে তলিয়ে গেছে। নিখোঁজদের খোঁজে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।