নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা, নথি ছাড়াই ভারতে ২ চিনা নাগরিক, হলেন গ্রেফতার

ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার থাকা সত্ত্বেও, বৈধ নথিপত্র ছাড়াই ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দুই চীনা নাগরিককে আটক করেছে বিহারের মধুবনি জেলা পুলিশ ও সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর একটি যৌথ দল। ঘটনাটি ঘটেছে মধুবনি জেলার ইন্দো-নেপাল সীমান্তে ২৮৪/৩৫ নম্বর পিলারের কাছে। আটককৃতদের নাম বু হেলং (৩৮) এবং শেং জুং ইয়ং (৩০)। তারা দুজনেই চীনের লিয়ান অনিং প্রদেশের দালিয়ান শহরের বাসিন্দা। এই ঘটনা সীমান্ত সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য গোয়েন্দা কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এসএসবি সদস্যরা নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় এই দুই বিদেশি নাগরিককে সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি এবং ছবি তুলতে দেখেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে, তাদের গ্রেফতার করা হয়। জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে একজন সামান্য ইংরেজি বলতে পারলেও, অন্যজন কেবল চীনা ভাষায় কথা বলতে সক্ষম। তাই, জিজ্ঞাসাবাদের সুবিধার্থে দোভাষীর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আটককৃতরা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চীনের সাংহাই থেকে বিমানযোগে নেপালের কাঠমান্ডুতে আসে। কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর পর তারা নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। এরপর, গত ২৬ মে তারা সড়কপথে জনকপুর হয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করে। জনকপুরের একটি হোটেলে তারা রাতও কাটিয়েছিল বলে জানা গেছে। এই ঘটনা সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর থাকার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলেছে।
আদালতে পেশ করার পর বিচারক এই দুই চীনা নাগরিককে ১৪ দিনের জন্য মধুবনি সেন্ট্রাল জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ এখন তাদের ভারতে প্রবেশের পেছনের আসল উদ্দেশ্য এবং কারণ খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনার সঙ্গে কোনো গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড জড়িত আছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার তদন্তে যুক্ত হয়েছে এবং আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের গতিবিধি এবং যোগাযোগের সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে।
বৈধ নথিপত্র ছাড়াই বিদেশি নাগরিকদের এভাবে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করা এবং তাদের সন্দেহজনক কার্যকলাপ, দেশের নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।